এর আগে দুটি বিয়ে করেছেন। কিন্তু তৃতীয় বিয়ে করতে এসেই পড়লেন বিপদে। হবু শ্বশুড় বাড়ির লোকদের হাতে বেধড়ক মারধরের শিকার হলেন বর। ঘটনাটি পাকিস্তানের। ওই ব্যক্তির নাম আসিফ সিদ্দিক। বয়স ৩০ এর কোটায়।
বিবিসির খবরে বলা হয়, করাচিতে বিয়ের কিছুক্ষণ আগে বিয়ে বাড়িতে এসে হাজির হন তার আগের এক স্ত্রী। এরপর ওই ব্যক্তির আরো দুটি স্ত্রী আছে বলে এমন তথ্য দেন। এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন আসিফকে ধাওয়া করে। এরপর ধরে মারধর করে। এতে তার শার্ট ও প্যান্ট ছিঁড়ে যায়। মারধরের একপর্যায়ে একটি থেমে থাকা বাসের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন আসিফ।
বিয়ের ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন স্ত্রীর এক আত্মীয় এসে বিয়েতে উপস্থিত পুরোনো স্ত্রীকে বলেন, ‘কী হয়েছে বোন?’
উত্তরে পুরোনো স্ত্রী মাদিহা সিদ্দিকী বলেন, ‘উনি আমার স্বামী আর এই শিশুর বাবা। উনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি তিন দিনের জন্য হায়দরাবাদ যাচ্ছেন। ২০১৮ সালে আসিফ আরো একটি বিয়ে করেন জেহরা আশরাফ নামের এক নারীকে।’
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বিবিসিকে জানায়, এরপরই নতুন স্ত্রীর আত্মীয়রা আসিফের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর করে।

নতুন স্ত্রীর আত্মীয়রা বরকে ঘিরে ধরে। ছবি: বিবিসি
পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু নতুন স্ত্রীর আত্মীয়রা থানায় যায়, এবং তার বেরিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরে আসিফ বেরিয়ে আসলে আবার তার উপর চড়াও হয়। তখন তিনি একটি থেমে থাকা বাসের নিচে লুকিয়ে পড়েন।
এসময় কেউ তাকে বলে, ‘বেরিয়ে আয় না হলে আমরা বাসে আগুন ধরিয়ে দেবো।’
ভয় পেয়ে ওই ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন, ‘এক মিনিটি, এক মিনিট।’ পরে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে বাসের নিচ থেকে বেরিয়ে আসেন। সে সময় এলাকার কিছু মানুষ সহিংসতা এড়াতে মারামারি থামিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে বহু বিয়ে আইনত বৈধ। সেখানে একজন পুরুষ চারটি পর্যন্ত বিয়ে করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে নতুন বিয়ে করার আগে তাকে আগের স্ত্রীদের অনুমতি নিতে হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আসিফ হয়তো ঐ শর্ত মানেননি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

