বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মহামারির প্রভাবে অর্থনীতির ক্ষতি আগামী এক দশক পর্যন্ত বহন করতে হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)। ‘মহামারির প্রস্তুতি ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ শিরোনামে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারি আকার ধারণ করায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়ো ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর প্রভাবে উত্পাদন পর্যায়ে কারখানায় শ্রমিকসংকট, সরবরাহ-ব্যবস্থায় সংকট ছাড়াও ভোগব্যয় কমাবে। ফলে বছরে বিশ্ব অর্থনীতির জিডিপি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অর্থনীতির যে ক্ষতি হচ্ছে, করোনার প্রভাবে তার মতো ক্ষতি হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত শতাব্দীতে ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জাজনিত কারণে মহামারি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে জনসংখ্যা বেড়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, বাণিজ্যসহ বৈশ্বিক চলাচল বেড়েছে। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি রয়েছে। ফলে এবারের মহামারির প্রভাব হবে যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ২০১৪ সালে ইবোলা ভাইরাসের কারণে আফ্রিকা অঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু এটি বিশ্বের অন্য অঞ্চলে তেমন প্রভাব ফেলেনি। গত ৩০ বছরে সার্স, মার্স এরকম অনেক সংক্রামক রোগে বিশ্বের ক্ষয়ক্ষতির পরেও বড়ো বিপর্যয়ে তেমন প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি বিশ্ব। ফলে অর্থনীতির ক্ষতির সঠিক হিসাব বের করাও কঠিন। এ ধরনের অবস্থা সরাসরি ক্ষতির চেয়ে অর্থনীতির সম্ভাবনাগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ইত্তেফাক/আরকেজি

