আফগানিস্তানে নব্য জঙ্গিদের বড় অংশ পাকিস্তানি নাগরিক: জাতিসংঘ

আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ২০:২০

জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল এক প্রতিবেদন অনুসারে আফগানিস্তানে থাকা জঙ্গি গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ পাকিস্তানের নাগরিক। সেই প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী জয়েস-এ-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বা যৌথভাবে আফগানিস্তানে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ পাকিস্তানি নাগরিককে জঙ্গি হিসেবে নিযুক্ত করেছে।

ইরো এশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের তালেবানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যেই সমঝোতা করার চেষ্টা করেছে, সেখানে পাকিস্তান থেকে নিয়োগ পাওয়া এই জঙ্গিদের বড় সমস্যা হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল।

ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে 'উদ্বেগ' প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ মূলক আচরণ হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সহায়তা করে আসছে পাকিস্তান।

জাতিসংঘ প্রতিবেদন অনুসারে, আফগান কর্তৃপক্ষের জন্য সবচাইতে বড় হুমকি তাহরিক-এ-তালেবান (টিটিপি), জেইএম এবং এলইটি। এই তিন গোষ্ঠী আফগানিস্তানের তালেবানদের ছত্র ছায়ায় দেশটির কুনর, নানগারহার এবং নূরিস্তান প্রদেশে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এদের মধ্যে জেইএম ও এলইটি আফগানিস্তানের দেশের বাহির থেকে পরামর্শক, প্রশিক্ষক এবং বোম তৈরি বিশেষজ্ঞ জঙ্গিদের প্রবেশে সহায়তা করে আসছে। এই উভয় গোষ্ঠীর লক্ষ বস্তুতে রয়েছে আফগানিস্তানের সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যরা। দেশটির নানগারহার প্রদেশে লস্কর-ই তৈয়েবা এবং জয়েস-ই-মোহাম্মদ এর যথাক্রমে ৮০০ ও ২০০ সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে।

এ ছাড়াও কুনোর প্রদেশে এই দুই জঙ্গি গোষ্ঠীর আরো প্রায় ১৮০ সশস্ত্র বাহিনী রয়েছে যারা তালেবানদের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে।

বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা কালেও আল-কায়েদা জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে তালেবানরা। সমঝোতা অনুসারে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তার সৈন্য প্রত্যাহার করে নেবে এবং তালেবানরা জঙ্গি হামলা চালাবে না। এভাবে দেশটিতে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

কান্দাহারে ২১ সহযোগীর সঙ্গে আটক হওয়া ইসলামিক স্টেট (আইএস) খোরশানি অধ্যায়ের কমান্ডার আব্দুল্লাহ ওরকজাইর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাসে আল-কায়েদা প্রধান আয়মান আল-জাওহিরি সাক্ষাত করেছে।

ইত্তেফাক/আরএ