ফাঁকা রাজধানীতে ঈদের দিনেও সব রুটে চলছে গণপরিবহন

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৯

পবিত্র ঈদুল ফিতরের চিরাচরিত সকালে রাজধানী ঢাকা সাধারণত থাকে নিঝুম, জনশূন্য। রাজপথের রাজা বাসগুলোর দেখা মেলা ভার হয়ে পড়ে। তবে এবারের চিত্র খানিকটা ভিন্ন। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। চিরচেনা সেই সুনসান নীরবতা ভেঙে হর্ন বাজিয়ে চলছে বাস, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও চাকা থামেনি যান্ত্রিক নগরের।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত মোড় গুলিস্তান থেকে মিরপুর, শাহবাগ, ফার্মগেট ও গাবতলী অভিমুখী বাসগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর ছেড়ে যাচ্ছে। পিছিয়ে নেই রামপুরা, বাড্ডা কিংবা আবদুল্লাহপুর রুটের গাড়িগুলোও। দক্ষিণ ও পূর্ব ঢাকার প্রবেশদ্বার সায়দাবাদ ও সাইনবোর্ড এলাকাতেও গণপরিবহনের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।

মিরপুর রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহনের চালক ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে কথা হলে একরাশ ক্লান্ত হাসিতে তিনি জানান, আজ ভোর ৬টাতেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। ঈদের সকালে রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা, যাত্রীও সামান্য। তবে তার আশা, ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর মানুষের আনাগোনা বাড়বে, বাড়বে যাত্রীর চাপও।

উৎসবের দিনে রাস্তায় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাসচালক ইব্রাহিম বলেন, “আমাদের তো ঈদ নাই, উৎসবও নাই। পেটের দায়ে স্টিয়ারিং ধরতে হয়। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনে দিয়েছি, কিন্তু নিজের জন্য এবারও কিছু কেনা হয়নি।” তার মতো হাজারো পরিবহন শ্রমিকের কাছে ঈদ মানেই তপ্ত পিচঢালা সড়কে বেঁচে থাকার লড়াই।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো কেন্দ্র করে মানুষের ভিড় বাড়বে। তখন গণপরিবহনের চাহিদা ও যাত্রী—উভয়ই কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

 
ইত্তেফাক/আইএ