ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অফিশিয়াল টুইটার থেকে সম্প্রতি পোস্ট করা একটি ছবি অনেককেই চমকে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের লনে পাশাপাশি বসে নরেন্দ্র মোদি ও হেনরি কিসিঞ্জার, আর ৯৬ বছরের বৃদ্ধ কিসিঞ্জার সজোরে চেপে ধরে আছেন মোদির হাত, একটু ঝুঁকে পড়ে দুজনে গভীর মনোযোগ সহকারে কথাবার্তা বলছেন। এই ছবি টুইট করে মোদি লেখেন, ‘ড. হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে দেখা করে আনন্দিত বোধ করছি। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে তার অবদান একজন পথিকৃতের!’
এই সেই হেনরি কিসিঞ্জার, মার্কিন কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যার প্রবল ভারতবিরোধী ভূমিকার কথা কারো অজানা নয়। কুখ্যাত ‘নিক্সন টেপে’ তো হেনরি কিসিঞ্জারকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ভারতীয়রা ‘সাচ বাস্টার্ডস’ (এত বড়ো বেজন্মা), আর ইন্দিরা গান্ধী একজন ‘বিচ’। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের চালানো গণহত্যাকেও প্রচ্ছন্ন সমর্থন করে স্বাধীন বাংলাদেশেও তিনি নিন্দিত। কাম্বোডিয়ায় বেআইনিভাবে বোমা ফেলে গণহত্যা থেকে চিলিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উত্খাত, এমন বহু ঘটনায় বার বার নাম জড়িয়েছে কিসিঞ্জারের। এহেন হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অন্তরঙ্গতার ছবি তাই অনেকেরই চোখ কপালে না তুলে পারেনি। খবর বিবিসি বাংলার।
নরেন্দ্র মোদির বাড়ির লনে যে পার্টিতে হেনরি কিসিঞ্জার ছিলেন, তিনি একাই নন, আরো ছিলেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কন্ডোলিসা রাইস, সাবেক অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড এবং সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট গেটসও। ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকা এক নিবন্ধে এই সমাবেশকেই কটাক্ষ করে বলেছে, ‘মাস্টারস অব ওয়ার : আর্কিটেক্টস অব মডার্ন কনফ্লিক্টস সে চিজ ফর ক্যামেরা।’ হেনরি কিসিঞ্জার তো আছেনই, মোদির টুইট করা আরেকটি ছবিতে হাসিমুখে যাদের দেখা যাচ্ছে তোরা সবাই ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন।
গার্ডিয়ানে ঐ নিবন্ধটির লেখক জুলিয়ান বোর্গার লিখছেন, ‘এই ব্লেয়ার বা কন্ডোলিজা রাইসরাই যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন গুজরাটে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পর তাদের দেশের সরকারগুলো মোদিকে ভিসা দিতে অস্বীকার করেছিল। এখন দেখে মনে হচ্ছে, সেই সব কবে চুকেবুকে গেছে।’
