মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
ব্যাটারি গলিয়ে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা ও বনাঞ্চলের ভেতরে বনের কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির চুল্লি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের আজগানা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে গতকাল এসব অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় মাহিন হোসেন (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের পর থেকে গ্রেফতারের ভয়ে এসব কারখানার মালিকরা আত্মগোপনে গেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল হক বলেন, এ পর্যন্ত ২০-২৫টি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির চুল্লি ও পাঁচ-ছয়টি সিসা তৈরির কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অভিযান চালিয়ে প্রতিটি এলাকার অবৈধ কয়লার চুল্লি এবং সিসা তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা যত বড়ো ক্ষমতাশালী হোক না কেন কোনো অবস্থায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জানা যায়, একটি চক্র উপজেলার আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাথরঘাটা, পেকুয়া, গায়রাবেতিল, বংশীনগর, মোতারচালা, নয়াপাড়া, বাঁশতৈল নয়াপাড়া, তালতলা, হাটুভাঙ্গা, কুড়িপাড়া, খাটিয়ারঘাটসহ বনাঞ্চলের আশপাশে ২০-৩০টি অবৈধ কয়লার চুল্লি তৈরি করে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছে। এছাড়া এসব এলাকায় সাত-আটটি ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল হক এবং জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম এবং পরিদর্শক সজিব কুমার ঘোষ অভিযান চালান। অভিযোগ আছে, আজগানা এলাকা ও কালিয়াকৈর এলাকার আশপাশে এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র ১০-১৫টি কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অবৈধ চুল্লি এবং সিসা তৈরির কারখানা চালিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
