মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মী শিশু জান্নাতী হত্যা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মী শিশু জান্নাতী (১২) হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে গতকাল শুক্রবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গৃহকর্ত্রী রোকসানা পারভীন। জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস। তবে রোকসানা পারভীনের স্বামী পিরোজপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদকে গতকাল পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।
ওসি জি জি বিশ্বাস বলেন, জান্নাতীর গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। গত তিন বছর ধরে রোকসানা পারভীনের বাসায় কাজ করছিল সে। তিনি জানান, রোকসানা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তিনি জান্নাতীকে মারধর করেছেন। এ সময় দেওয়ালের সঙ্গে আঘাত পেয়ে সে অজ্ঞান হয়ে রান্নাঘরে পড়ে যায়। ঐ অবস্থাতেই দুই ঘণ্টার মতো ঘরে পড়ে ছিল। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা জানায় আগেই সে মারা গেছে।
ওসি আরো জানান, আসামিকে (রোকসানা) রিমান্ডে নেওয়ার আগেই তিনি স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। এই মামলায় অপর আসামি রোকসানার স্বামী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ওসি জি জি বিশ্বাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল থেকে আমাকে ফোনে জানানো হয়, ১২ বছরের এক কিশোরীকে নিয়ে আসা হয়েছে। আমার অফিসার ও আমি নিজে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখে আসি। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয়। পরে আমরা শিশুর পরিবারকে খবর দেই। তারা বৃহস্পতিবার এসে অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহকর্ত্রীকে আটক করা হয়। মামলার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
জান্নাতী স্যার সৈয়দ রোডের বাসা নম্বর ৬/৫-এ, দ্বিতীয় তলার এ/১ ফ্ল্যাটে কাজ করত। ঐ ফ্ল্যাটটি প্রকৌশলী সাঈদ আহমেদের। ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন তার স্ত্রী রোকসানা পারভীন, সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ও বোন। ঘটনার সময় সাঈদ আহমেদ বাসায় ছিলেন। রবিবার থেকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। জান্নাতী নিহত হবার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার বাবা জানু মোল্লা মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জান্নাতীর মামা আরিফুল ইসলাম জানান, জান্নাতীর বাবা গ্রামে অটোরিকশা চালান। জান্নাতীরা তিন বোন ও এক ভাই। জান্নাতী সবার বড়ো। সংসারে অভাবঅনটনের কারণেই তাকে রোকসানার বাসায় কাজে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্মমভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেন তিনি।
বুধবার ময়নাতদন্তের পর লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়। এর পর বৃহস্পতিবার জান্নাতীর স্বজনরা মর্গ থেকে লাশ গ্রহণ করে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান। গতকাল দুপুরে নিজগ্রামের কবরস্থানে জান্নাতীর লাশ দাফন করা হয়।
