স্পোর্টস রিপোর্টার
আগের রাউন্ডে তাকে একাদশে নেওয়া হয়নি। সে জন্য চাকরিও হারিয়েছিলেন রংপুর বিভাগের কোচ। এই রাউন্ডে সেই জেরেই দলে ঢুকলেন রিশাদ হোসেন। দলে এসেই বাজিমাত করে ফেললেন। ক্যারিয়ারের প্রথমবার তুলে নিলেন ইনিংসে ৫ উইকেট। আর তার বোলিংয়ের ওপর ভর করে রাজশাহীর বিপক্ষে দাপট দেখাচ্ছে রংপুর।
প্রথম স্তরের আরেক ম্যাচে একইভাবে আগের রাউন্ডে বসে থাকা জুবায়ের হোসেন লিখন মাঠে নেমেছেন এই রাউন্ডে ঢাকা বিভাগের হয়ে। শেষ বিকালে তিনি ১টি উইকেট পেলেও ঢাকার দিনটা ভালো যায়নি। এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে খুলনা।
কক্সবাজারে ঢাকার বিপক্ষে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় খুলনা। দলীয় ১৬ রানে পরপর ২ উইকেট হারানোয় মনে হচ্ছিলো তারা ভুল করেছে। কিন্তু অভিজ্ঞ তুষার ইমরানের সঙ্গে দারুণ এক জুটি করেন এনামুল হক বিজয়। দুই জনে ১৬৬ রান যোগ করেন তৃতীয় উইকেটে। তুষার ১২৪ বলে ৫৫ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে জুটি করে এগোনোর চেষ্টা করেন বিজয়। কিন্তু তিনি আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মাঠ ছাড়ার আগে সেঞ্চুরি করেছেন বিজয়। তিনি ২০৫ বলে ১১২ রানে অপরাজিত আছেন।
মিঠুন ৪৫ রানে আউট হওয়ার পরপর ফিরে আসেন নুরুল হাসান সোহান। এরপর জিয়াউর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ আবার ইনিংসটা টেনে নিয়ে যান। জিয়া ২৭ রান করে আউট হয়ে যান। তবে মিরাজ ৩০ রান নিয়ে উইকেটে আছেন।
রিশাদ গতকালও খুব ভালো সুযোগ শুরুতে পাননি। প্রথমেই রাজশাহীর দুটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন সাজিদুল ইসলাম। এরপর মিজানুর ও শান্ত একটা জুটি করার চেষ্টা করছিলেন। এই সময় ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে আসেন তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ। তিনি নিজের পরপর দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটসম্যানের উইকেট তুলে নেন। খানিক পর সাব্বির রহমানের উইকেটও নেন এই তরুণ।
এরপর সানাজমুলকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন রাজশাহীর অধিনায়ক ফরহাদ হোসেন। সানজামুলকে বোল্ড করেন রিশাদ। আর ফরহাদ হোসেনও ৬০ রান করার পর এই রিশাদেরই শিকার হন। সবমিলিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট তুলে নেন রিশাদ।
২০১ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। জবাব দিতে নেমে অবশ্য স্বস্তিতে নেই রংপুরও। গতকালই ৩২ রান তুলতে তারা হারিয়ে ফেলেছে ২ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা—ঢাকা বিভাগ
খুলনা-১ম ইনিংস: ৯১ ওভারে ২৯০/৬ (বিজয় ১১২, তুষার ৫৫, মিঠুন ৪৫, মিরাজ ব্যাটিং ৩০, জিয়াউর ২৭; তাইবুর ২/৪০, সুমন খান ২/৪১)।
রাজশাহী—রংপুর
রাজশাহী-১ম ইনিংস: ৭১.৪ ওভারে ২০১/১০ (ফরহাদ হোসেন ৬০, শান্ত ৩৪, মিজানুর ২৪; রিশাদ ৫/৫০, সাজিদুল ২/১৫, শুভ ২/৩৭)।
রংপুর-১ম ইনিংস: ১৬ ওভারে ৩২/২ (মারুফ ব্যাটিং ১৯)।
