যাতায়াত সংকট নিরসনে উপেক্ষিত ৮০ ভাগ মানুষ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৮

ঢাকা শহরের যাতায়াত সংকট নিরসনে মেট্রোরেল ও উড়াল সড়কের মতো বড়ো প্রকল্পগুলো প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে এই শহরে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ সুবিধা পাবে। বাকি ৮০ শতাংশ অর্থাত্ পথচারী, বাস, রিকশা ও অন্যান্য মাধ্যমে চলাচলকারীগণ উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে পরিবহন ব্যবস্থায় সংকট সমাধানের পরিবর্তে সমস্যা বহুগুণে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান বক্তারা। গতকাল ধানমন্ডির পবা কার্যালয়ে ‘যানজট নিরসনে চলমান পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ যাতায়াত ৫ কি.মি. এর মধ্যে, যার অর্ধেক যাতায়াত আবার ২ কি.মি. এর মধ্যে হয়ে থাকে। এই স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য সাইকেলে ও হেঁটে নিরাপদে চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা এবং অধিক দূরত্বের জন্য গণপরিবহন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত গাড়ি বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। তবে গণপরিবহন ব্যবস্থা যেমন মেট্রোরেল, বাস র্যাপিড ট্রানজিট এবং সাধারণ বাস সার্ভিস এর উন্নয়নে স্টপেজে আসা-যাওয়ার পথ অবশ্যই সুগম করতে হবে। এ জন্য ৮০ শতাংশ মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে বিনিয়োগ করা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ডাব্লিউবিবি-ট্রাস্ট এর কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মারুফ হোসেন বলেন, ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি করে ১০ শতাংশের নিচে ট্রিপ সংঘটিত হয়ে থাকে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে যানজট আরো বাড়বে একথা নিশ্চিত করেই বলা যায়। বর্তমানে যানজটের কারণে প্রতিদিন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। জ্বালানির অপচয় হচ্ছে, বাড়ছে দূষণ। এজন্য বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ৪০টি নতুন ব্যক্তিগত গাড়ি। এছাড়া মোটরসাইকেল এখন প্রায় ৭ লাখ, এটিও দুর্ঘটনা ও দূষণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাই উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার বিকল্প নাই।

গোলটেবিল বৈঠকে সুপারিশ জানিয়ে বক্তারা বলেন, শহরজুড়ে পথচারী ও বাইসাইকেলের জন্য নিরাপদ ও প্রবেশগম্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাসকে প্রাধান্য দিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য স্টপেজে আসা-যাওয়ার সুবিধাসহ সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাসহ আট দফা সুপারিশ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, যুব ফাউন্ডেশনের সদস্য শাকিল ওসমান, ইয়ুথ সান এর সভাপতি মাকিবুল হাসান বাপ্পী, সমন্বয়ক আরিয়ান তানভীর, সদস্য ফারহানা ইয়াসমিন বাবলী, সানজিদা ফাহিরন মুক্তা, পবা’র সদস্য রাসেল রহমান, তানভীর মাসুম, রাশেদুজ্জামান প্রমুখ।