পাগলা মসজিদ

এবার দানবাক্সে মিলল দেড় কোটি টাকা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৫

গতকাল শনিবার জেলা শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স হিসেবে ব্যবহূত মোট আটটি লোহার সিন্দুক খুলে গণনা করে পাওয়া গেছে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৪ হাজার ৫৯৮ টাকা। ৩ মাস ১৩ দিন পর লোহার সিন্দুকগুলে খোলা হয়েছে। তাছাড়া পাওয়া গেছে প্রচুর বৈদেশিক ও দেশীয় খুচরা মুদ্রা এবং স্বর্ণালংকার। এর আগে গত ১৩ জুলাই দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

সকাল ৯টা থেকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মীর মো. আল কামাহ্ তমাল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদল হাসান, উবাইদুর রহমান সোহেল, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকতউদ্দিন ভুঁইয়া, রূপালী ব্যাংকের এজিএম অনুপ কুমার ভদ্রের সার্বিক তত্ত্বাবধানে টাকা বাছাই ও গণনার কাজ শুরু হয় এবং বিকাল পর্যন্ত টাকা গণনার কাজ চলে। মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক, মসজিদ কমিটির লোকজন টাকা বাছাইয়ের পর টাকাগুলো বস্তায় ভরেন। পরে  রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ টাকাগুলো গুনে বুঝে নেন। পাগলা মসজিদের নামে রূপালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট আছে। পরে প্রাপ্ত টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হয়। সাধারণত তিন-চার মাস পরপর এই সিন্দুকগুলো খোলা হয়।

জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদকে ঘিরে অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই মসজিদে আসেন। তারা দান ও মানত করে যান। তাছাড়া প্রতিদিনই লোকজন গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি প্রভৃতিও নিয়ে আসে। সেসব বিক্রি করে ফান্ডে জমা দেওয়া হয়। অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনও এই মসজিদে এসে দান ও মানত করে।