আওয়ামী লীগ জিতবে ১৬৮-২২০ আসনে

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩৯

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এক গবেষণা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ জরিপের ফলাফল তুলে ধরে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ১৬৮ থেকে ২২০টি আসনে জয়লাভ করবে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি ব্যবধানে এবার আওয়ামী লীগের বিজয় হবে। ভোট সামনে রেখে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারকে (আরডিসি) দিয়ে করানো এক জরিপের ফলাফলে এই পূর্বাভাস এসেছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন। এই জরিপগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ উল্লিখিত আসন পাবে। এর আগে গত জুলাইয়ে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেও আরডিসিকে দিয়ে একটি জরিপ করিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ওই জরিপের ফলাফল নির্বাচনের আগে প্রকাশ করেছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ওই সময় জয় বলেছিলেন, রাজশাহী ও বরিশালে বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে। একই সঙ্গে সিলেটে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। বাস্তবে এ জরিপ ফলাফলের মিল ছিল। রাজশাহী ও বরিশালে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বড় জয় পান। সিলেটে বিএনপি প্রার্থী ছয় হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

গতকাল সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘এই বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত আমরা এযাবত্কালের সবচেয়ে বড় জাতীয় জনমত জরিপটি করাই। নিরপেক্ষ গবেষণা সংগঠন রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি) দ্বারা এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এ বছরের মেয়র নির্বাচনের জরিপটিও এই সংগঠনটিই করেছিল। আপনাদের হয়তো মনে আছে, আমার পেজ থেকে সেই জরিপটিও শেয়ার করি, যার ফলাফল নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে মোটামুটি ভালোই মিলেছিল।’ জয় জানান, এবারের জরিপ ৫১টি নির্বাচনী আসনের ৫১ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের সঙ্গে কথা বলে করা হয়েছে। অর্থাত্ প্রতি আসনে অন্তত এক হাজার ভোটারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনের ফলাফল আমলে নিয়েই এই ৫১ আসনকে বৈজ্ঞানিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই আসনগুলোয় ভিন্ন ভিন্ন দলের জন্য সবচেয়ে বেশি ভোট দেওয়ার প্রবণতা দেখতে পাওয়া গেছে। এখানে সাধারণত জয়ের পার্থক্য সবচেয়ে কম থাকে। অর্থাত্ এই আসনগুলো নিয়েই দল সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর পুত্র বলেন, যেহেতু জরিপটি মনোনয়ন প্রক্রিয়ার আগে করা হয়েছিল, তাই প্রার্থীদের ব্যাপারে জনমত জানা যায়নি। কিন্তু দলগতভাবে ৫১টি আসনেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে। সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা জয়পুরহাট-১ আসনে, সেখানে ভোটের ব্যবধান হতে পারে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনা বরিশাল-৪ আসনে, ভোটের ব্যবধান হতে পারে ৭৫ শতাংশ। যারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি, তাদের সবচেয়ে কম সংখ্যা দেখা যাচ্ছে টাঙ্গাইল-৩ আসনে, ২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সিদ্ধান্তহীনদের সংখ্যা সাতক্ষীরা-৩ আসনে, যেখানেও আওয়ামী লীগের জয়লাভের ব্যবধান ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, গড়ে আওয়ামী লীগের জন্য সমর্থন ৬৬ শতাংশ মানুষের, বিএনপির জন্য ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্ত নেননি। আরো গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি, তা হচ্ছে কোনো আসনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ১০ শতাংশের মধ্যে নেই। শুধু ২টি আসনেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমর্থনের পার্থক্য ২০ শতাংশ। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এই ফলাফলগুলো বয়স ও লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে বের করা হয়েছে। তাই মোট ফলাফল সর্বক্ষেত্রে শতভাগ নয়। আসন অনুযায়ী ‘মার্জিন অব এরর’ ৩ শতাংশ এবং আস্থা স্তর (কনফিডেন্স লেভেল) ৯৫ শতাংশ। সম্পূর্ণ ৫১ হাজার স্যাম্পলের ‘মার্জিন অব এরর’ শূন্য শতাংশ এবং আস্থা স্তর ৯৫ শতাংশ।