কেন এইভাবে নিষ্পেষণের শিকার হইবে মুসলিমরা?

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৩৬

বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই কমবেশি বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের লোক বসবাস করিতেছে। প্রত্যেক ধর্মের লোকেরই রহিয়াছে সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থানে থাকিয়া পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখিয়া বসবাস করিবার অধিকার। কিন্তু দেখা যাইতেছে কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদেরই সবচাইতে বেশি নিষ্পেষিত করা হইতেছে। বিশ্বের শান্তির প্রতীক যেই ধর্ম, তাহার অনুসারীরা আজ দিকে দিকে চরম নির্যাতন-হত্যা আর বৈষম্যের শিকার হইতেছে। কতিপয় পরাশক্তির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও প্রপাগান্ডার কারণে সমগ্র বিশ্বে আজ মুসলিমরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হইতেছে; যেন তাহাদের একটাই অপরাধ—তাহারা ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান। ফিলিস্তিন, মিন্দানাও, চেচনিয়া হইতে শুরু করিয়া বেশ কিছু অঞ্চল দীর্ঘদিন যাবত্ নিপীড়ন হইতে স্থায়ী মুক্তি পাইতে লড়াই করিয়া যাইতেছে। কিন্তু পরাশক্তিধররা যেন এই সকল মুসলিমদের উপর দমন-পীড়ন ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালাইবার ঢালাও অনুমোদন দিয়া রাখিয়াছে! কিছু মুসলিম-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রকে কী করিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা যায়—তাহার জ্বলন্ত উদাহরণ ইরাক, সিরিয়া আর লিবিয়া। অন্যদিকে উন্নত বিশ্বে ইসলাম ফোবিয়া সামাজিকভাবে এমন পর্যায়ে লইয়া যাওয়া হইতেছে, যাহা মুসলমানদের জন্য মানসিক পীড়নের বড়ো কারণ হইয়া উঠিতেছে।

এই একবিংশ শতাব্দীতে আসিয়া বিশ্বব্যাপী সকল দেশেই কমবেশি প্রাচুর্য বাড়িয়াছে। কিন্তু এত প্রাচুর্যের ভিতরেও পৃথিবীতে কোথাও মানুষের মনে স্বস্তি নাই, শান্তি নাই, মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস লইবার ফুরসত নাই। ২০০৯ সালে পৃথিবীতে উদ্বাস্তুর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩৩ লক্ষ, ২০১৯ সালে আসিয়া তাহা ৭ কোটি পার করিয়াছে। যুদ্ধ ছাড়া আর কোনো বাস্তবতা নাই সিরিয়ার লক্ষ লক্ষ শিশুর। সিরিয়া, লিবিয়া বা ইরাকের মতো দেশে হয়তো পশ্চিমাদের আদলে গণতন্ত্র ছিল না বটে, কিন্তু অনেক বিশ্লেষক মনে করেন—একটি সমৃদ্ধ দেশ আবহমান কাল ধরিয়া যেইভাবে থাকিতে অভ্যস্ত, তাহাকে তাহার নিজস্ব সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য লইয়া সেইভাবেই থাকিতে দেওয়াটা ছিল যথার্থ। কিন্তু ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর বিশ্বকে নূতন করিয়া পালটাইয়া দিয়াছে। টুইন-টাওয়ারের ভয়াবহ হামলার পর মার্কিন মিত্রজোট সন্ত্রাস নির্মূলে বিশ্বব্যাপী শুরু করে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ যুদ্ধ। কথিত এই ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ যুদ্ধে সরাসরি প্রাণ হারাইয়াছে ৫০ লক্ষাধিক মানুষ। আর এই যুদ্ধ ছড়াইয়া পড়িয়াছে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশে। এই যুদ্ধে নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নাই। বরং নিজেদের প্রয়োজনে পরাশক্তিরা এই সকল যুদ্ধের মধ্যে কথিত একটি ‘আদর্শের’ প্রলেপ দিয়া থাকে। এই যে যুদ্ধকে আদর্শের প্রলেপ দিয়া আরো আগ্রাসি এবং অনিবার্য করিয়া তোলা হয়—তাহা আরো বেশি অমানবিক। প্রশ্ন জাগে, যাহারা কথিত মানবতার প্রবক্তা, এইভাবে বিশ্বব্যাপী একটি বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের নিরন্তর নিষ্পেষণ আর হত্যার সময় কি তাহাদের মানবিক নয়ন অন্ধ হইয়া থাকে?

মনে রাখিতে হইবে, এই বিশ্ব দানবের তরে নহে, মানবের তরে। এই সংকটের প্রতিক্রিয়ায় ঘনীভূত হইতে পারে আরো বড়ো সংকট। সুতরাং পরাশক্তিরা নিজেরা ভালো থাকুক, অন্যদেরও শান্তিতে থাকিতে দিক।