আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এলাকায় যে অত্যাচার নির্যাতন করেছে, মানুষ এখন তার প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে। সে কারণে এখন তারা জনরোষের ভয়ে এলাকায় আসতে না পেরে ঢাকায় বসে খবরের কাগজে বিবৃতি দেয়। কিন্তু আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় নিয়মিত এলাকায় এসেছি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোলা-১ আসনের পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চর জাঙ্গালিয়া স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আগামী ৩০ ডিসেম্বর শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় বিজয়ী করতে হবে। তিনি (শেখ হাসিনা) তার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো গরীব, দুখী, মেহনতী মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।'
তোফায়েল বলেন, 'শেখ হাসিনার সরকার গরীব মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিচ্ছে। অসহায় মানুষের জন্য ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়। বৃদ্ধ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে মানুষের অনেক উপকার হচ্ছে। জীবনমান পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।'
তিনি আরো বলেন, 'এছাড়া আমি নিজে প্রত্যেক ঈদের আগে গরীব মানুষের জন্য শাড়ি-লুঙ্গি, শীতে গরম কাপড় বিতরণ করি। এবার যেহেতু নির্বাচন তাই এখনো শীতবন্ত্র দিতে পারিনি। নির্বাচনের পরে ইনসাল্লাহ শীতের কাপড় দিব। ভোলার ফেরি আমাদের সময়ে হয়েছে। নির্বাচনের পরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ কাজ আরম্ভ হবে।'
তোফায়েল বলেন, 'আজ যে স্কুলের মাঠে সভা হচ্ছে সেটি এমপিওভুক্ত করেছি আমরা। এই কলেজ ভবন আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। এই গ্রামের কাঁচা রাস্তা আমরা পাকা করে দিয়েছি। অন্ধকার গ্রামে বিদ্যুৎ এনে দিয়েছি। মেঘনার নদীর ভাঙ্গন রোধসহ অনেক উন্নয়ন হয়েছে সরকারের গত ১০ বছরে।'
প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ সরকারের আগেও এই দেশে অন্য সরকার ক্ষমতায় ছিলো। তারা বাংলার মানুষের জন্য কি করে? বরং বিএনপি-জাতীয় পার্টির আমলে ভোলায় যারা মন্ত্রী ছিলেন, তাদের বাড়ির রাস্তা আমরা করে দিয়েছি।'
মন্ত্রী বলেন, '২০০১ সালের নির্বাচনের পরে আমাদের উপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। ভোলা-৩ আসনের আব্দুল মালেক নামের এক লোকের দুটি চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে। মায়ের সামনে মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। আওয়ামী লীগের মিটিং এ মরিচের গুড়া মেরে পন্ড করে দিয়েছে। মিলাদ পড়তে দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা ১০ বছরের ক্ষমতায় একজন মানুষের উপরেও অত্যাচার করিনি। পারলে সবাইকে সাহায্য করেছি।'
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর আরো বলেন, 'আমরা কোন মারামারি-হানাহানি করে ভোটে জয়লাভ করতে চাই না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চাই।'
এ সময় তিনি সবাইকে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ছগির মাস্টারের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোশারেফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ হাজী।
আরও পড়ুনঃ নৌকার প্রচারণায় শোবিজ তারকারা
সন্ধ্যার পরে মন্ত্রী পূর্ব ইলিশায় অপর এক পথসভায় বক্তব্য দেন। এখানে নৌকার পক্ষে ভোট চান তোফায়েল আহমেদ।
ইত্তেফাক/নূহু
