নির্বাচনে জামায়াতের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকলেও তারা বিএনপির ছদ্মবেশে নির্বাচনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আশঙ্কা কাজ করছে। গত বুধবার ঢাকাস্থ বৃটিশ হাইকমিশনের দুজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম ৯ আসনের প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে গেলে তিনি এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। নওফেল সাংবাদিকদের বলেন, বৃটিশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জামায়াত নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- জামায়াত নির্বাচনে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে কি না, কোনো সংঘাত সৃষ্টি করবে কি না। আমি তাদের বলেছি- জামায়াত যদিও অনিবন্ধিত দল হিসেবে ঘোষিত হয়েছে কিন্তু তারাতো আর বাতাসে মিলিয়ে যায়নি। জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডাররা এখন বিএনপিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা ধারণা করছি- বিএনপিতে থেকে জামায়াতের ক্যাডাররা সংঘাতের ঘটনা ঘটাতেও পারে, অসম্ভব কিছু না। জামায়াত-বিএনপিতো মাসতুতো ভাই।
উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রামের দুটি আসন থেকে জামায়াতের দুজন নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম ১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে এবং জামায়াত নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল মার্কা নিয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে চট্টগ্রামের অন্য আসনগুলোতেও জামায়াতের শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে যা নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে, গত বুধবার রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে পুলিশ চট্টগ্রামে গায়েবি মামলা অব্যাহত রেখেছে। তার নির্বাচনী এলাকা হালিশহরে থানা বিএনপির ১০০ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে বুধবার একটি গায়েবি মামলা দায়ের হয়েছে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম ১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় গণসংযোগ করার সময় তার ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা করে। এসময় পুলিশ বাধা দেওয়াতো দূরের কথা উল্টো বিএনপির স্থানীয় এক নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
