পৃথক অস্ত্র মামলায় জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষী এবং ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। গুলশান থানার দায়ের করা অস্ত্র মামলায় জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট জিআর শাখায় র্যাব ১-এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। এ অভিযোগপত্রে জি কে শামীম ছাড়া অন্যরা হলেন তার সাত দেহরক্ষী দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।
অপর দিকে ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় গত ১৯ অক্টোবর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-৩-এর সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন। গতকাল রবিবার মহানগর হাকিম দেবদাস অধিকারী অভিযোগপত্রটি ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শেখ রকিবুর রহমান। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর গ্রেফতার কারো বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হলো।
জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর অভিযোগপত্রের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) শেখ রকিবুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার জি আর শাখায় এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। আজ সোমবার অভিযোগপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
আদালত সূত্র জানায়, ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় চার্জশিট আদালতে জমা পড়েছে, যাতে তার (খালেদ) বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঢাকার বড়ো একটি এলাকায় ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের’ অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে বেড়ে ওঠা খালেদের বিরুদ্ধে চার্জশিটে বলা হয়েছে, অবৈধ ‘আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে’ এই যুবলীগ নেতা ও তার বাহিনী রাজধানীর মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর, মুগদা, কমলাপুর, রামপুরা, সবুজবাগসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সাধারণ মানুষ তার ভয়ে আতঙ্কিত ছিল। এদিকে গতকাল রবিবার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় খালেদ মাহমুদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আল মামুন। এছাড়াও রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পিতা-পুত্র হত্যা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
খালেদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন এই যুবলীগ নেতা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ টাকা নেন। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসিনো বসে। খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করেন। খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের একটি হাট বসান এ নেতা। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা আদায় করেন। একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজারের সভাপতির পদটিও দীর্ঘদিন তিনি ধরে রেখেছেন। শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণ করেছেন।
