মৌলভীবাজারের বড়লেখা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য অফিস। অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ এনে ওই তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এই কারণ দর্শানোর এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। ওই তিন কর্মচারী হচ্ছেন- বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মাছুম উদ্দিন, পরিচ্ছন্ন কর্মী মৌলা মিয়া ও নিরাপত্তা প্রহরী মুহিবুর রহমান নানু।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে চালুর পর থেকে তেল সংকট, যন্ত্রাংশ নষ্টসহ নানা অজুহাতে সেটি বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেসরকারি পরিবহনের দ্বারস্থ হয়ে দ্বিগুণ টাকা গুণতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাড়লো জাতীয় লিগের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর বিমান দাস নামের একজন অসুস্থ মাকে সিলেটে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স চাইলে চালক জানান অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট। পরে তিনি বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। ভোর রাতে মাছুম আহমদ নামে আরেকজন তার অসুস্থ চাচাতো ভাইকে নিয়ে সিলেট যাওয়ার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চালকের নম্বর চেয়েও পাননি। পরে তিনিও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন।
জানা গেছে, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মাছুম উদ্দিনের দুইটি ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মী মৌলা মিয়ারও দুইটি এবং নিরাপত্তা প্রহরী মুহিবুর রহমান নানুর আছে একটি। তারা সিন্ডিকেট করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি বন্ধ রাখছে। সিন্ডিকেটের বাইরের কারও অ্যাম্বুলেন্স তারা হাসপাতালে ঢুকতে দেন না। ফলে বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় তাদের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করতে হয়।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিন কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথাটি সোমবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মদ হোসেন।
ইত্তেফাক/এসইউ
