স্ত্রীকে গালাগালির প্রতিবাদ করায় স্বামীকে মারধর, অপমানে স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:২৪

সাভার উপজেলার আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার কাজের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলার অভিযোগে এক নারী শ্রমিককে গালাগাল করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি জানার পর ওই নারী শ্রমিকের স্বামী অনিক মিয়া কারখানায় গিয়ে তার স্ত্রীকে গালাগালের প্রতিবাদ জানান। এসময় কারখানার ৫ কর্মকর্তা অনিক মিয়াকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করায় তিনি অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার টর্ক ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার গেটে আটকে অনিক মিয়াকে মারধর করা হয়।

এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ওই তৈরি পোশাক কারখানার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আসামিরা হলো- টর্ক ফ্যাশন লিঃ এর এ্যাডমিন অফিসার পিন্টু, সহকারী এ্যাডমিন অফিসার রুবেল, ফ্লোর ইনচার্জ হারুন, সুপারভাইজার পারভেজ এবং অপারেটর রাকিব। নিহত অনিক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানার আড়াইসিধা গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে। সে স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীমকে নিয়ে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার মনিরের ভাড়া বাড়িতে থেকে রং মিস্ত্রীর কাজ করতো। তার স্ত্রী মীম টর্ক ফ্যাশন লিঃ কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করে।

নিহত অনিকের স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারখানায় কর্মরত অবস্থায় তিনি স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলেন। বিষয়টি কারখানার এ্যাডমিন অফিসার পিন্টুসহ পারভেজ, রুবেল, রাকিব ও হারুন দেখতে পেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এসময় মোবাইলে তার স্বামী গালিগালাজ শুনতে পেয়ে কারখানার গেটে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এসময় ওই কর্মকর্তারা অনিককে কারখানার ভিতরে নিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এঘটনার পর অনিক বাসায় ফিরে যায়। দুপুর ১টার দিকে স্ত্রীকে আনার জন্য আবারও অনিক কারখানায় গেলে কারখানার ওই কর্মকর্তারা আবারও তাকে পিটিয়ে আহত করে এবং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে অনিক বাসায় গিয়ে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় থানায় হত্যার প্ররোচনায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।