শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের সেমিফাইনালে গোকুলাম কেরালাকে রোমাঞ্চকরভাবে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে উঠে গেছে স্বাগতিক চট্টগ্রাম আবাহনী। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন দলটির আইভরিয়ান মিডফিল্ডার চার্লস দিদিয়ের।
অথচ গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে দারুণ খেলেও পিছিয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। প্রথম ৩০ মিনিটে গোটা চারেক সুযোগ নষ্ট করার পর ২৯তম মিনিটে রক্ষণের ভুলে গোল হজম করে চট্টগ্রাম আবাহনী।
মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল হেনরি কিসেকা আয়ত্তে নিলেও তা বিপদমুক্ত করার সুযোগটা ছিল তাকে প্রহরায় রাখা রিয়াদুল হাসান রাফির। কিন্তু তার স্লাইডিং ট্যাকলে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা বিফলে যায়, ফলে ফাঁকায় পড়ে যাওয়া কিসেকা সুযোগটা নেন। কাছের পোস্টে তার নেওয়া জোরালো শট গোলরক্ষক মোহাম্মদ নেহালকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়ায় স্বাগতিকদের জালে। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়েই বিরতিতে যায় প্রথমবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তবে বিরতির পরই চার্লস দিদিয়েরের গোলে দৃশ্যটা পালটে যায়। রক্ষণের জটলা থেকে ফরোয়ার্ড আরিফের থ্রু খুঁজে পায় দিদিয়েরকে। গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে তার মাপা শট গোকুলাম জালে জমা হলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
এর মিনিট দশেক পর আবারও দিদিয়েরের থ্রুতে ভাঙে গোকুলাম রক্ষণ। এবারো গোলবঞ্চিত ফরোয়ার্ডের নাম লুকা। দুর্বল শট বেরিয়ে যায় গোলপোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে। ৭৫ মিনিটে রক্ষণ ভেঙে ঢুকে পড়েন আরিফ। তবে তার শট গোকুলাম গোলরক্ষক রুখে দিলে এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয় আবাহনী। ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙে ৮০ মিনিটে। দারুণ শারীরিক দক্ষতায় চট্টগ্রাম আবাহনী রক্ষণে ঢুকেই দুরূহ কোণ থেকে বল জালে জড়ান গোকুলাম অধিনায়ক মার্কাস জোসেফ। ৯০ মিনিটে কাওসার আলি রাব্বির কাটব্যাকে গোল করে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরান প্রথমার্ধের গোলদাতা দিদিয়ের।
নির্ধারিত সময়ে সমতা থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০৪ মিনিটে কাওসার আলি রাব্বির ক্রসে করা ম্যাথিউর ভলি প্রথমবার ফেরালেও দ্বিতীয়বারে তার হেড আর ফেরাতে পারেনি গোকুলাম রক্ষণ। জয়সূচক গোলটি পেয়ে উল্লাসে ভাসে এম এ আজিজের স্টেডিয়ামে উপস্থিত ২০০০০ দর্শক। ১১৮ মিনিটে কিসেকা মেজাজ হারিয়ে আবাহনী খেলোয়াড়কে ফাউল করে দেখেন লাল কার্ড।
এরপর শেষ বাঁশি বাজার আগে মাঠের দুই পাশ থেকে গোকুলামের সব ক্রস প্রতিহত করে কেবল রক্ষণকাজটা সামলেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। ফলে ৩-২ গোলের দারুণ জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় দলটি।
