চট্টগ্রামে খেলোয়াড় সংকট
- অভিমত আশীষ ভদ্রের
নেয়ামত উল্লাহ, চট্টগ্রাম থেকে
বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন সময়ে দারুণ সব খেলোয়াড় পেয়েছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। বঞ্চিত হয়নি বাংলাদেশ ফুটবলও। একটা সময় চট্টগ্রামের ছেলে আশীষ ভদ্র খেলেছেন ঢাকাই ফুটবলে। এই তো, কিছুদিন আগেও এখানকার ছেলে মামুনুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক। তবে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলে চট্টগ্রামের তারকা খেলোয়াড় খেললেও বর্তমানে ঢাকার ফুটবলে চট্টগ্রামের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো কম। এর কারণ হিসেবে চট্টগ্রামের ফুটবল কাঠামো আর মাঠের অভাবকেই দায়ী করলেন সাবেক প্লে-মেকার আশীষ।
চট্টগ্রামের বুকে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের তৃতীয় আসর। গেল দুইবারের চেয়ে চলতি মৌসুমে মানুষের আগ্রহটা বেড়েছে। তবে চট্টগ্রামের ফুটবল এতে কতদূর লাভবান হচ্ছে তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করলেন আশীষ। ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত আলাপে তিনি বললেন, ‘স্থানীয়দের ব্যাপক অংশগ্রহণ না থাকলে এই টুর্নামেন্টে ফায়দা কতটুকু তা নিয়ে আমি সন্দিহান।’
স্থানীয় খেলোয়াড়দের উঠে আসার পেছনে বড়ো একটা বাধা হিসেবে কাজ করছে এখানকার ফুটবল কাঠামো, অভিমত সাবেক এই ফুটবলারের। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে, প্রথম বিভাগ-দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলও হচ্ছে। কিন্তু সবকিছুই খুব কম সময় নিয়ে হচ্ছে। লিগ ফুটবল তো কম সময় নিয়ে করার মতো ব্যাপার নয়। এতে ফুটবলারের মানটা যাচাই হচ্ছে না।’
আসছে নভেম্বরেই চট্টগ্রাম মেয়র কাপে খেলবে এখানকার ৪১টি ওয়ার্ডের দল। তবে এমন টুর্নামেন্ট যেখানে বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের পাদপ্রদীপের আলোয় আসার উপলক্ষ্য হওয়ার কথা, সেখানে প্রতিযোগিতাটিতে দেখা যায় ঢাকার লিগ খেলা সাবেক ফুটবলারদের। এ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আবাহনী কিংবদন্তি বলেন, ‘কদিন পরেই মেয়র কাপের খেলা শুরু হয়ে যাবে। এখানে বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের বদলে খেলানো হচ্ছে সাবেক জাতীয় লিগের খেলোয়াড়দের, বয়স হয়ে যাওয়া খেলোয়াড়দের। এটা উঠতি খেলোয়াড়দের উন্নতি করতে দিচ্ছে না।’
একটা সময়ে চট্টগ্রামের অন্যতম বড়ো মাঠটি ছিল আগ্রাবাদে। সেটি এখন জাম্বুরি পার্কের দখলে। এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের আউটারে খেলার জায়গাটিও হারিয়ে গেছে। আশীষ জানালেন, সার্কিট হাউজেও একসময় মাঠ ছিল, কালের গর্ভে সেটি বিলীন। স্টেডিয়ামের বিপরীতে যেখানে বর্তমানে হোটেল র্যাডিসন অবস্থিত সেখানেও একটি মাঠ ছিল, একই পরিণতি হয়েছে সেটিরও।
খেলোয়াড় সংকটের পেছনে একেও বড়ো কারণ হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় থেকে অন্তত চারটা মাঠ কমে গেছে। মাঠ না থাকলে ছেলেরা খেলার সুযোগ পাবে কেমন করে?’ কিছুটা দায় কালবদলেরও দেখছেন তিনি, ‘আমাদের সময়ে আমরা বিকালে মাঠে দৌড়াতাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ছোটো ছোটো বাচ্চারা ইন্টারনেটে বুঁদ। এটাও একটা প্রভাব ফেলছে।’
এ থেকে পরিত্রাণ লাভের উপায় কী? সাবেক ফুটবলারের পরামর্শ, পেশাদারিত্ব আনতে হবে সব জায়গায়। তার ভাষ্য, ‘আগে অ্যামেচার সংগঠকদের দিয়ে ফুটবল চলত। এখন সব জায়গায় পরিস্থিতি বদলেছে। এ হাওয়া এখানকার ফুটবলেও বইতে দিতে হবে। পেশাদারিত্ব আসতে হবে। ফুটবলারদের ছোটো থেকেই ট্রেইন করবার জন্য অ্যাকাডেমি বানাতে হবে। তাহলেই এখানকার ফুটবলে উন্নতি হবে।’
