ফের ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হবে:প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:২৭

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদকের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হবে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বিভিন্ন পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীসহ তরুণ-তরুণীর মুখোমুখি হয়ে তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। একজন তরুণ শেখ হাসিনাকে প্রশ্ন করেন, ‘কবে দুর্নীতি মুক্ত হবে বাংলাদেশ?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমার লক্ষ্য আছে। আমি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আভিযান চালিয়েছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এরপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হবে। 

সম্প্রতি ‘লেট’স টক উইথ শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তরুণদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, তরুণ পেশাজীবী, অ্যাথলেটস, খেলোয়াড়, সংস্কৃতিকর্মীসহ দেড়শ’র মতো তরুণ অংশ নেন। এর আগে বেশ কয়েকবার প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি এ অনুষ্ঠানে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সেখানে দুর্নীতি করার দরকার কী? অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে সরে আসতে পারলে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব।’ তরুণদের মুখোমুখি হয়ে ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ নিয়ে তাদের স্বপ্ন ও আশার কথা শোনেন শেখ হাসিনা। এ সময় তরুণরা জঙ্গিবাদমুক্ত, লিঙ্গ বৈষম্যহীন এক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর কোটা তুলে দেওয়া হয়েছে, এটি পুনর্বিবেচনা করবেন কি না— প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান একজন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোটা বাতিলের জন্য আন্দোলন করা হয়েছে। সে কারণে কোটা তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেকে বলেছে, এই দাবি মেনে নেওয়া মানে হেরে যাওয়া। আমি বলেছি, না হেরে যাওয়া নয়। কেননা বাচ্চারা দাবি করেছে, সেই দাবির প্রেক্ষিতে কোটা বাতিল করা হয়েছে। যারা প্রতিবন্ধী, নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছেন তাদের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করে নতুন দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।’ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো শঙ্কা কাজ করে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চেয়েছি দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক। কিন্তু সারাদেশে যখন একযোগে ৫০০ স্থানে বোমা হামলা হয়, বোমা পুঁতে রাখা। এ ধরনের কাজ আমি পছন্দ করিনি। আর আমি এর আগে ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি করে সেখানকার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করেছিলাম।

বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি তরুণদের বলেন, ‘জাতির পিতা বলে গেছেন, মহত্ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। ত্যাগের মধ্য দিয়েই অর্জন করা যায়। আর সত্ থাকতে হবে। যদি সত্ না থাকতাম তাহলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করতে পারতাম না। পদ্মা সেতুর কাজও শুরু করতে পারতাম না। আমার এই একটি সিদ্ধান্ত বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাকে অন্য এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমি তোমাদের কাছে এটাই চাই যে, সেই আত্মমর্যাদা তোমরা ধরে রাখবে। যেখানে আমরা বাংলাদেশকে রেখে যাচ্ছি, তোমরা সেখান থেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তোমাদের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দিচ্ছি কারণ তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যত্।

তরুণদের সঙ্গে আলাপে শেখ হাসিনার বেড়ে ওঠা, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা, দলের নেতৃত্ব গ্রহণ, দেশের উন্নয়নে কাজ করাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। ডা. নুজহাত চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির চারটি সংবাদমাধ্যম সংগ্রহ করে। সিআরআইর ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও নসরুল হামিদ বিপু এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল অনুষ্ঠানে অংশবিশেষ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হয়।