সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে নতুন ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করে উত্পাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন শুরু করে। এরপর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কারখানা ভাঙচুর ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ-শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে গতকাল প্রায় ৩৫টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পুলিশ, শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সকালে সাভারের হেমায়েতপুর হরিণধরা এলাকার স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের দুটি কারখানার শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী ডার্ড গ্রুপের একটি কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কারখানাটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা বের হয়ে আসে। পরবর্তীতে আরও কিছু উত্তেজিত শ্রমিক স্থানীয় বিভিন্ন কারখানায় একইভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বাধা প্রদান করে। এসময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
একই দাবিতে আশুলিয়ার জিরাবো, কাঠগড়া ও নরসিংহপুর এলাকার হামিম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, টেক্স টাউন, এ.আর জিন্স প্রডিউসার, এফজিএস ফ্যাশন, লিলি এ্যাপারেলস, সাউদার্ন গ্রুপসহ প্রায় ৩২ কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার এ.আর জিন্স প্রডিউসার লিমিটেড কারখানার জেনারেল ম্যানেজার রওশন আলী খন্দকার বলেন, শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো সকালে কারখানায় প্রবেশের পর কর্মবিরতি পালন শুরু করে। একপর্যায়ে অন্য কারখানার কিছু শ্রমিক এসে আমাদের কারখানার মূল ফটকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে তাদেরকে বের করে নিয়ে যায়।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক মাহামুদুর রহমান বলেন, মজুরি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে টানা পঞ্চম দিনের মতো সাভার-আশুলিয়ার বেশকিছু কারখানায় বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তবে কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা বাড়ি চলে গেছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ-বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি শিল্প এলাকায় চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন।
