শুল্ক ফাঁকির মামলায় বিএনপির এমপি হারুনের জামিন

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৩৭

শুল্ক ফাঁকির মামলায় দণ্ডিত বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার তার জামিন মঞ্জুর করে। একইসঙ্গে ৫০ লাখ টাকার জরিমানার আদেশ স্থগিত করেছে আদালত। হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আজ মঙ্গলবার আপিল বিভাগে আবেদন করবে দুদক।

এদিকে, জামিন আদেশের পর হারুনের কৌঁসুলি ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে আদালত। যেহেতু আপিল বিচারাধীন সেহেতু উনি সংসদে যোগ দিতে পারবেন। তবে দ্বিমত পোষণ করে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, হারুন দণ্ডিত। তার দণ্ড স্থগিত চাওয়া হয়েছিল হাইকোর্ট স্থগিত করেনি। ফলে সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর সংসদ সদস্য নন।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার কারণে হারুন এমপি হিসেবে অযোগ্য হয়ে গেছেন। সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদে সংসদের আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের ৬৭(১)(ঘ) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হয়ে যান। ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বত্সরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বত্সরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।” সংবিধানের বিধান অনুযায়ী উনি আর এমপি নন। তবে তিনি সংসদে যোগ দিতে পারবেন কি না সেটা একান্তই স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

গত ২১ অক্টোবর শুল্ক ফাঁকির মামলায় বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি অনাদায়ে আরো ছয় মাসের দণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন হারুন। তার পক্ষে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও এম মাহবুবউদ্দিন খোকন এবং দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন।