‘ভাষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও চায়না রেডিওর মেলবন্ধন’ —মো. ইমামুল কবীর শান্ত

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০৯

চীনের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ‘শরত্কালীন চায়নিজ ল্যাঙ্গুয়েজ শেয়ারিং সেশন-২০১৯’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সিআরআই এসএমএফ কনফ্যুসিয়াস ক্লাসরুমের শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম প্রমোশন ভিডিও ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সিএসসিসি ও ওভারসিস চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে এক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরও অনুষ্ঠিত হয়। শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের ক্রিয়েটিভ দ্য আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কনফ্যুসিয়াস ইনস্টিটিউট, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি কনফ্যুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও সিআরআই এসএমএফ কনফ্যুসিয়াস ক্লাসরুমের প্রতিনিধিরা এবং চায়না-বাংলাদেশের ইয়ুথ ক্যাম্প শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিল।

শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্তর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মি. ঝুয়াং লিফেং, পাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লি. বাংলাদেশের কমার্শিয়াল ম্যানেজার মি. হ্যানকুন, ইয়ুথ ক্যাম্প মেম্বার খালেদ মির আকবর প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. আহসানুল কবীর, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী মো. মফিজুর রহমানসহ চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের (সিসিটিভি) ওভারসিজ কমিউনিকেশন সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর মিসেস ওয়াং জিওংজিয়ান ও চায়না-বাংলাদেশের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তৃতায় শান্ত বলেন, ‘শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন একটি মানবকল্যাণমুখী সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। বহুমুখী ভাষা চর্চা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে এই প্রতিষ্ঠান। যার আওতায় চলছে সিআরআই-এসএমএফ কার্যক্রম। এই উভয় প্রতিষ্ঠান চীনা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে জোরালো করতে মেলবন্ধনের ভূমিকায় অবতীর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা সফলতার সঙ্গে চারটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, তিনটি চীনা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, চাইনিজ রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ কর্তৃক রবীন্দ্র গবেষণার আলোচনা, অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় অংশগ্রহণ, জাতীয় আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ, চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ শিক্ষার ওপর মাসব্যাপী সরাসরি টিভি শোর আয়োজন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে চীনা ভাষা শেখানোর জন্য অনুষ্ঠান এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং জিয়ানয়ি ও লি জুন আমাদের কার্যক্রম পরিদর্শন করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এছাড়াও মাননীয় হানবান প্রধান সিআরআই এসএমএফ কনফ্যুসিয়াস ক্লাসরুম পরিদর্শন করে পৃথিবীর অন্যতম সেরা কনফ্যুসিয়াস ক্লাসরুম হিসেবে আমাদেরকে আখ্যায়িত করেছেন। আমরা চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক এক্সিলেন্ট ব্রডকাস্ট কনফ্যুসিয়াস ক্লাসরুম হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছি। এ জাতীয় আরো অনেক গৌরবগাথা রয়েছে আমাদের।’

সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে শান্ত-মারিয়াম একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ও শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত ও একক নৃত্য ও সংগীত, সিএসসিসি শিক্ষার্থীদের বেইজিং ওপেন এবং চায়নিজ সংগীত ‘আই কেন ফ্লাই’ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগীত পরিবেশনা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় চায়নিজ ভাষা ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।