বৃষ্টিতে পচনের আশঙ্কা

খেত থেকে আলুবীজ তুলে নিচ্ছেন চাষি!

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০৭

দিনাজপুরে দুই দিনের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আগাম আলুচাষিদের স্বপ্ন। ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগাম আলু আবাদ করতে গিয়ে দুই দিনের বৃষ্টিতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তারা। কদিন আগে যে আলুবীজ জমিতে বপন করা হয়েছিল, বৃষ্টির ফলে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পচনের হাত থেকে রক্ষার্থে সেই আলুবীজ আবার তুলে নিচ্ছেন আলুচাষিরা। আলুচাষিরা বলছেন, এতে অধিক খরচ তো হচ্ছেই এক সপ্তাহের মধ্যে সেই বীজ আবার বপন করতে না পারলে বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তারা।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বুকচিরে বয়ে যাওয়া ছোটো শাখা যমুনা নদীর কোল ঘেঁষে বিস্তীর্ণ মাঠ। শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া আলুর খেতে আবুল হোসেন ও হাসান আলী নামের দুই ব্যক্তি আলু তুলছেন। সম্পর্কে তারা দুই জন পিতা-পুত্র। কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, গত বুধবার সকালে নিজ জমিতে বপন করা আলুবীজ শুক্রবার বিকাল থেকেই তুলতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, পাশের জমিতে স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ছানাউল হকও তার জমি থেকে আলু তুলছেন আর গামলায় রাখছেন।

জমিতে গিয়ে কথা হলো দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বালুপাড়া গ্রামের আলুচাষি আবুল হোসেন (৬৫) এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আলুর মৌসুমে অধিক লাভ পাওয়ার আশায় আমরা এ এলাকার আলুচাষিরা আগাম জাতের আলুর চাষ করি। গত বুধবার সকালে ৪০ শতক জমিতে রোমানা জাতের হাইব্রিড আলুর বীজ লাগিয়েছি। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে টানা বৃষ্টির কারণে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। আজ জমি থেকে আলুর বীজগুলো তুলতে না পারলে আলুগুলো সব পচে নষ্ট হয়ে যাবে।’

মাধবপাড়া গ্রামের আলুচাষিদের দেওয়া তথ্য মতে, এ গ্রামের প্রায় ২০ জন চাষির প্রত্যেকেই সর্বনিম্ন ১০ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন। আলুচাষীদের মধ্যে হবিবর রহমান ১৪ বিঘা, তজেন উদ্দিন ১২ বিঘা, দিলদার হোসেন ১২ বিঘা, ঝকেন মালিতা ১২ বিঘা, জমশের মল্লিক ১১ বিঘা, জালাল উদ্দিন ১০ বিঘা  জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন। এছাড়াও ঐ গ্রামের রসুল মিয়া পাঁচ বিঘা ও বাবু মিয়া পাঁচ বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করেছেন।

আলুচাষি হবিবর রহমান বলেন, ‘এবার আমি ১৪ বিঘা জমিতে ৫৬ বস্তা আলুর বীজ লাগিয়েছি। খরচ পড়েছে প্রায় ৯৮ হাজার টাকা। সার, শ্রমিক খরচ ও জমি চাষ খরচ প্রায় ৯৭ হাজার টাকাসহ সব মিলে শুধু আলুবীজ লাগাতেই প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল।’

শুধু বিরামপুর নয়, দুই দিনের বৃষ্টিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় আগামী আলুচাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদ ইকবাল জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আগাম জাতের আলু বপন শুরু করেছেন বেশ কিছু কৃষক।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টিপাতের কারণে আগাম আলুচাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাছাড়া বৃষ্টির ফলে আমন ধানেরও বেশ ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।