বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক আশ্রয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি বনে যাওয়া থামাতে কক্সবাজারের আট উপজেলাসহ চারটি পৌরসভায় ২৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম। দীর্ঘ সময় ধরে জন্মনিবন্ধন বন্ধ থাকায় পাসপোর্ট, বিয়ে, শিক্ষার্থীদের ভর্তি, ভোটার তালিকা হালনাগাদে ভোগান্তিসহ আরো নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনলাইন জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ায় নতুন ভোটার হতে আগ্রহী অনেকে ছিটকে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি সাজতে নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে জন্মনিবন্ধন হাতিয়ে নেওয়ায় কক্সবাজারসহ পার্শ্ববর্তী পার্বত্য জেলাগুলোতেও অনলাইনে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত করা হয় ২০১৭ সালের শেষের দিকে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা জামান (ছদ্মনাম) বলেন, উচ্চশিক্ষার আশায় বাউবিতে ভর্তি হতে গিয়ে জন্মনিবন্ধন ছাড়া সেটা আটকে গিয়েছিল। অনেক অনুরোধের পর ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া প্রত্যয়নে কোনোমতে ভর্তিটা সম্পন্ন করা গেছে।
কক্সবাজার শহরের ব্যবসায়ী আজিজ মওলা চৌধুরী বলেন, অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে অনেক ছেলেমেয়ের জন্মনিবন্ধন আগে হয়নি। এমন মেয়েদের বিয়েও আটকে যাচ্ছে জন্মনিবন্ধনের কারণে।
তাজ করপোরেশন ট্রাভেল এজেন্টের স্বত্বাধিকারী জানে আলম বলেন, জন্মনিবন্ধন বা এনআইডি নাম্বার না থাকায় বিগত দুই বছরে অনেকে চিকিত্সা বা প্রবাসের জন্য পাসপোর্ট করতে এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন।
কক্সবাজার সিটি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত ইব্রাহিম জানান, ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, কিন্তু জন্মনিবন্ধন না থাকায় সম্প্রতি চলমান ভোটার হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত হতে ব্যর্থ হয়েছি।
ভোটার নিবন্ধন কাজে সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বপালন করা টেকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল হক বলেন, অনলাইনে জন্মনিবন্ধন ছাড়া কোনোভাবেই কাগজপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে দুই বছরে অনেক ভোটারের কাগজপত্র গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, অনলাইনে জন্মনিবন্ধন বন্ধ থাকায় মানুষ পাসপোর্ট, বিদেশ যাত্রা, স্কুলে ভর্তিসহ অনেক কাজে চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, জন্মনিবন্ধনের সার্ভার বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে ঢাকার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বার বার কথা বলেছি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় কঠোরতা দেখাতে হচ্ছে। তাই জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু গত দুই বছর ধরে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সার্ভার বন্ধ থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন স্থানীয়রা। এরপরও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় কিছু কাজ আমরা করছি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘এভাবে চলে না, সার্ভারটা খুলে দেওয়া দরকার। তাই উচ্চপর্যায়ে অনেকবার চিঠি দিয়েছি। আশা করছি শিগগিরই এ বিষয়ে ভালো ফলাফল আসবে।’
