চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৬

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৩

সাভারের আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানায় চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (১৭) গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর মোল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সোমবার রাতে ওই এলাকার শান্তর বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতেই আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী তরুণী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চাঁদপুরের মতলব থানার আছলছিলা গ্রামের মো. সোহেল মিয়ার ছেলে রবিন ওরফে সানি (২৪), আশুলিয়ার তৈয়বপুর এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে আজিম উদ্দিন মোল্লা (২৫), কামরাঙ্গীরচরের রনি গেইট এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে আকবর হোসেন (২৩), একই এলাকার মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে শান্ত (২২), আক্কেল আলীর গলির জাহাঙ্গীর গাজীর ছেলে মো. নাহিদ (২১) এবং রসুলপুর এলাকার রহিম মিয়ার ছেলে মো. ইমরান (২০)।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় শিশু সাবিহা হত্যা মামলার একমাত্র আসামির মৃত্যুদণ্ড

আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম জানান, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর চাচাতো বোন মালার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে রবিনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে রবিন চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে মালা তার চাচাতো বোনকে নিয়ে আশুলিয়ায় চলে আসেন। আশুলিয়ায় এসে রবিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে রবিন তৈয়বপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করে। মালার সঙ্গে রবিনের ঘনিষ্ঠতা দিন দিন বাড়তে থাকে। এরপর সোমবার রাতে রবিনের বাসায় তার কয়েকজন বন্ধু বেড়াতে আসলে তাদের নিয়ে সে ওই দুই বোনের বাসায় যায় এবং তার ওই বন্ধুরা চাকরির ব্যবস্থা করে দিবে বলে জানায়। এ সময় রবিন ওই তরুণীর চাচাতো বোন মালাকে ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে যায় এবং কৌশলে তার বন্ধুদের ওই তরুণীর কক্ষে ঢুকিয়ে দেয়। এ সময় বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিন মোল্লার সহায়তায় চারজন ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী রাতেই আশুলিয়া থানায় বিষয়টি জানিয়ে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার তৈয়বপুর মোল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়। ভুক্তভোগী তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম