ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ শুরু হতে পাঁচ দিনেরও কম সময় বাকি। এর আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেমন টালমাটাল অবস্থা, তেমনি ঠিক স্বস্তিতে নেই ভারতও। না, দলগত কোনো ব্যাপার নয়, ভারতের শঙ্কা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) হাতে একটা চিঠি এসেছে, যাতে এই সিরিজ চলাকালে দিল্লিতে ভারতীয় দলের ওপর হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আসছে তিন নভেম্বর টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে সিরিজ। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে দিল্লির অরুন জেটলি (সাবেক ফিরোজ শাহ কোটলা) স্টেডিয়ামে। এনআইএর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করছে, এই ম্যাচে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা বোর্ড।
ফলে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরো বেশি লোকবল নিরাপত্তায় কাজে লাগানোর জন্য বলা হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। বোঝাই যাচ্ছে, হামলার হুমকিকে মোটেই হালকাভাবে নিতে রাজি নয় ভারত।
মূলত হুমকিটা পেয়েছে দেশটির ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস ইন্ডিয়া জানিয়েছে, চিঠিটা এসেছে ‘অল ইন্ডিয়া লস্কর’ নামের একটি জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ থেকে। তাদের নিরাপত্তা বিভাগ দেরি না করে চিঠিটা পাঠিয়ে দেয় এনআইএকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এর আগেও এমন হুমকি পেয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সফর চলাকালেও একটি উড়ো চিঠি এসেছিল বিসিসিআইয়ের হাতে। তবে, তেমন কিছু সে সময় ঘটেনি। চিঠিটা যে পাঠিয়েছিল—তাকেও গ্রেফতার করা হয়।
ভারতের বিপক্ষে সিরিজকে সামনে রেখে আজ ভারতের উদ্দেশ্যে বিমানে উঠবে বাংলাদেশ দল। দিল্লি দিয়ে শুরু করার পর, নাগপুর ও রাজকোটে হবে বাকি দুই ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলবেন না নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। নেতৃত্ব দেবেন রোহিত শর্মা। ইনজুরির কারণে নেই জাসপ্রিত বুমরাহ ও হার্দিক পান্ডিয়া।
এরপর আগামী ১৪ নভেম্বর দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই সিরিজ দিয়েই আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ দল। প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ইন্দোরের হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ নভেম্বর, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। এই টেস্ট ম্যাচটা হবে দিবারাত্রির। প্রথমবারের মতো গোলাপি বলের টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ দল।
