কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা পাড়ের ৪টি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গ্রাম গুলোর স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১২ হাজার মানুষের ভরসা কাঠের ব্রিজ ও বাঁশের সাঁকো। জনপ্রতিনিধিদের হরহর করে বলে দেওয়া প্রতিশ্রুতি গুলোও ছিল ব্রজবুলি।
সরেজমিনে, গ্রামের কাঁচা সড়ক গুলোয় একাধিক স্থানে বাঁশের সাঁকো। কোথাও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ব্রিজ। প্রতিদিন এসব সাঁকো দিয়ে মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। আর পণ্য পরিবহন তো রীতিমত ঝুঁকির।
উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত বজরা ইউনিয়নের সাদুয়া দামার হাট থেকে তিস্তা নদী গামী সড়কটির সাদুয়াদামার হাট দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন স্থানে বাঁশের খুঁটির ওপর ঝুলন্ত সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষজন। কাজিরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে সন্তোষ অভিরাম গামী রাস্তাটি প্রায় দেড় যুগ আগে বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। স্থানীয়রা সেখানে কাঠের ব্রিজ তৈরি করে চলাচল করলেও আজও পাকা ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ওই বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তা থেকে সাদুয়াদামারহাট গামী রাস্তায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও এসব এলাকায় বিভিন্ন রাস্তার ভাঙ্গা স্থানে ছোট-ছোট বাঁশের সাঁকো লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলার বজরা ও গুনাইগাছ ইউনিয়নের সঙ্গে সংযোগকারী এসব রাস্তা যেন এক বৃত্তেই আটকে আছে। গ্রাম গুলোতে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি দাখিল মাদরাসা ও বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই চলছে। কবে এসব স্থানে ব্রিজ বা কার্লভাট নির্মাণ করা হবে তা কেউ জানেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ তিস্তা নদীপাড়ে এ দুটি ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: তিনি ‘পেশাদার প্রেমিক’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌল্লা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে বাঁশের সাঁকো মুক্ত বাংলাদেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। সে লক্ষে কাজ করছি। নতুন আসায় বিষয়টি জানা ছিলনা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের বলেন, পরে এসব স্থানে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
ইত্তেফাক/এসি
