পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘোড়িয়া দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে আওয়ামী লীগ মাঠ পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থা লৌহ দৃঢ়তায় মজবুত। আওয়ামী লীগের অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশিতসহ নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের জন্য নৌকার ভোট প্রার্থনা করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পেলেও ঈশ্বরদীতে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এ অবস্থান হাবিব তৃণমূল নেতাদের নির্বাচনের মাঠে নামানোর চেষ্টা করে নিষ্ফল হয়ে জেলা কমিটির শরণাপন্ন হন। জেলা বিএনপি বৃহস্পতিবার উপজেলা ও পৌর বিএনপির পাঁচজন করে নেতা নিয়ে সমঝোতার জন্য পাবনায় বৈঠক করেন। বৈঠকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈঠকে জেলা কমিটি তৃণমূলের নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। শুধুমাত্র উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় সকলেই হাবিবের ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নিতে রাজী হননি।
কারণ বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক সংসদ সিরাজুল ইসলাম সরদার মনোনয়ন না দেওয়ায় চরম হতাশ। এখানে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সিংহভাগ নেতাকর্মীই সিরাজ সরদারের মনোনয়নে একাট্টা ছিলেন। ২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে হাবিব বনাম সিরাজের দ্বন্দ দীর্ঘ দিনেও নিরসন না হওয়ায় প্রার্থিতা নিয়ে চরম আকার ধারণ করে। যে কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার কাজেই হাবিব বিভিন্ন স্থানে দলীয় সভা করে মান-অভিমান ভাঙ্গানোর প্রচেষ্টায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ধানের শীষের অবস্থা এখন পর্যন্ত খুবই নাজুক।
আরো পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে দুর্দশার জন্য দায়ী আমেরিকা: ইরান
এদিকে নৌকার পোষ্টারে ঈশ্বরদী ও আটঘোড়িয়া ছেয়ে গেছে। ধানের শীষের পোষ্টার লাগানো এখনও শুরু না হওয়ায় কোথায়ও কোন পোষ্টার চোখে পড়েনি। এরই মধ্যেই সব এলাকায় ভোটারদের বাড়ি ঘুরে ঘুরে নৌকার ভোট চাওয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী শরীফ প্রতিদিনই বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পেশাজীবীরাও নৌকার পক্ষে মাঠে ভোট চাইছেন।
উল্লেখ্য, স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালে তদানীন্তন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিবকে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সিরাজ সরদার বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ হাবিবকে মনোনয়ন না দিয়ে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফকে মনোনয়ন দিলে হাবিব বিএনপিতে যোগদান করেন। হাবিব বিএনপিতে যোগ দিলেও ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে সিরাজ সরদারকেই ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়। ২০০১ সালে হাবিবুর রহমান হাবিব বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ‘কুড়াল’ প্রতিকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। তবে, ১৯৯৬ হতে এযাবৎ পর পর ৪ বার বর্তমান ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপি বিএনপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
