মোজাহেদুল ইসলাম
সঠিক নিয়মে যে কোনো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারে এর আয়ু ঠিক থাকে। আমরা অনেকেই না জেনে-বুঝে ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে থাকি। এতে যেমন ডিভাইসগুলোর সঠিক ব্যবহার হয় না, ঠিক তেমনি এর আয়ুস্কালও কমে যায়। এই ধরনের ডিভাইসের মধ্যে ল্যাপটপ অন্যতম। একটু সতর্কভাবে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে দীর্ঘদিন কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না আপনাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি ট্রিকস যা অনুসরণ করলে আপনার ল্যাপটপটি থাকবে সুরক্ষিত।
ফ্ল্যাট সার্ফেসে ব্যবহার না করা
অনেকেই কোলে নিয়ে ল্যাপটপ ইউজ করেন, অনেকেই রয়েছেন যারা বিছানার ওপরে ল্যাপটপ ইউজ করেন। এতে ল্যাপটপের ব্যাটারির আয়ু এবং হার্ডওয়্যার আয়ু অনেক কমে যায়। ল্যাপটপ নরম কোনো সার্ফেসে রাখলে এতে ঠিকমতো বায়ু সঞ্চালিত হতে পারে না, কুলিং ফ্যানগুলো ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার ঠান্ডা করতে পারে না। কারণ ভেতরের গরম বাতাস বাইরে থেকে বের হতে পারে না ঠিকমতো।
ল্যাপটপের ব্যাটারি ০ শতাংশ না করা
কেনার পরে ব্যাটারি অনেক ভালো ব্যাকআপ দেয়। নতুন ল্যাপটপগুলোতে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে পারে, আরো হাই অ্যান্ড ল্যাপটপগুলোতে আরো বেশি দেয়। যাইহোক, বছর খানেক পরে সেটা এমনি কমে যাবে স্বাভাবিক। কিন্তু এর মানে এই নয়, আপনি ল্যাপটপের ব্যাটারি ০ শতাংশ করার পরে তার পরে আবার চার্জে লাগাবেন। একটি ব্যাটারি ঠিক কতবার চার্জ ও ডিসচার্জ হতে পারে তার একটি লিমিট রয়েছে। আপনি যদি বারবার ০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসচার্জ করে ফেলেন তার পরে আবার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করেন আপনার ল্যাপটপ ব্যাটারির আয়ু ৫০ শতাংশ বার আরো দ্রুত কমে যাবে।
ব্যবহার বিধি
আপনার উইন্ডোজ ল্যাপটপ অন করলেন, পিসি আপনাকে ওয়েক্যাল ম্যাসেজ শো করল, কিন্তু এর মানে এটা নয় পিসি ইনস্ট্যান্ট ইউজের জন্য রেডি হয়ে গেছে। কিছুটা সময় নিয়ে অপেক্ষা করা উচিত, অন্তত যতক্ষণ মাউস পয়েন্টার থেকে বিজি আইকন সরে না যায়। ল্যাপটপ অন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক বড়ো কাজের চাপ চাপিয়ে দিলে ল্যাপটপ সেগুলোকে ঠিকমতো প্রসেস করতে পারবে না। কেন না সিস্টেম রান করতে প্রসেসরকে প্রথমেই অনেক কাজ করতে হচ্ছে এর মধ্যে নতুন টাস্ক প্রসেসর হ্যান্ডেল করতে নাও পরে, যদি এক্কেবারে সুপার হাই কনফিগ ল্যাপটপ হয় সে কথা আলাদা! এই ভুল করার মাধ্যমে ল্যাপটপ বা অপারেটিং সিস্টেম হ্যাং হয়ে যেতে পারে আর সঙ্গে সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম নিজেই ক্র্যাশ করতে পারে।
চার্জে লাগিয়ে বেশিক্ষণ ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ব্যাটারি খুলে নিন!
অনেকেই রয়েছেন, যারা ল্যাপটপ বাসাতেই বেশি ইউজ করেন, সেক্ষেত্রে চার্জার সর্বদা প্ল্যাগ করা থাকে ল্যাপটপের সঙ্গে। এতে ব্যাটারি আয়ু কমে যায়। যদিও ল্যাপটপ ব্যাটারিতে ওভার চার্জ প্রোটেকশন রয়েছে, কিন্তু অনেক বেশি সময় ধরে চলা হিট থেকে আপনার ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি ল্যাপটপ বাসায় চার্জে প্ল্যাগ করেই বেশি ইউজ করেন, সেক্ষেত্রে বলব ব্যাটারি ৬০-৭০ শতাংশ চার্জ হওয়ার পরে খুলে রেখে দিন।
সঠিক প্ল্যাগ ব্যবহার না করা
প্রায় বাসাতেই মাল্টিপ্ল্যাগ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সঠিক ম্যাল্টি প্লাগ ব্যবহার না করলে আপনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আমাদের দেশে পাওয়ার চার্জ প্রবলেম রয়েছে অনেক। এতে অনেক সময় কারেন্ট ভোল্টেজ আপ-ডাউন করে আবার নানান সমস্যা তৈরি করে। সেক্ষেত্রে ল্যাপটপের বা পিসির ডাটা লস হয়ে যেতে পারে বা মাদারবোর্ড পুড়ে বাদাম ভাজায় পরিণত হতে পারে।
সবসময় সেই ম্যাল্টিপ্লাগ ইউজ করবেন যেটাতে ডেডিকেটেড সুইচ থাকবে। এতে কারেন্টের সমস্যা বা আপ-ডাউন লক্ষ করতে পারলেই সুইচ অফ করে কানেকটেড থাকা ডিভাইজগুলো প্রটেকট করতে পারবেন। অনেক সময় বজ্রপাতের ফলেও ল্যাপটপ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আপনার ম্যাল্টিপ্লাগে যদি ডেডিকেটেড সুইচ থাকে সেক্ষেত্রে সেটা অফ করে দিলেই বাড়ির মেইন লাইনের সাথে আপনার ল্যাপটপ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে বজ্রপাত আপনার লাইনে প্রবেশ করলেও ল্যাপটপ পর্যন্ত যেতে পারবে না।
অপারেটিং সিস্টেমের যত্ন
ল্যাপটপকে ঠিকঠাক রাখার জন্য যে কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো একটি ভালো অভ্যাস তৈরি করুন। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনসটল করা থেকে বিরত থাকুন। যদি সিস্টেমে অকাজের সফটওয়্যার ইনসটল করা থাকে সেগুলোকে আনইনসটল করে দিন। নিয়মিত রেজিস্ট্রি ক্লিন করুন, টেম্পোরারি ফাইলগুলো রিমুভ করুন, এসএসডিতে বেশি ডাটা রিড-রাইট করা থেকে বিরত থাকুন। ভালো অ্যান্টিভাইরাস এবং অ্যান্টিম্যালওয়্যার প্রোগ্রাম ইউজ করুন, সেগুলোকে নিয়মিত আপডেটেড রাখুন। পিসির ড্রাইভারগুলোকে আপডেটেড রাখুন, ক্র্যাক বা প্যাচ করা সফটওয়্যার ইউজ করা থেকে বিরত থাকুন এবং নিয়মিত ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার স্ক্যান করুন।
মানসম্পন্ন চার্জার ব্যবহার করুন
অনেক সময় ল্যাপটপের চার্জার নষ্ট হয়ে গেলে নতুন চার্জার না কিনে বন্ধুর পুরোনো চার্জার ব্যবহার করেন কেউ কেউ। এরকম করা থেকে বিরত থাকুন, বা বাজারে গিয়ে সস্তা চার্জার খোঁজা থেকে বিরত থাকুন, কনফিউশন থেকে দূরে থাকার জন্য ভালোমানের ও সম্ভব হলে অরিজিন্যাল চার্জার ইউজ করুন। সস্তা চার্জার ইউজ করার ফলে আপনার ল্যাপটপের মাদারবোর্ড টোস্টে পরিণত হতে পারে, আর ব্যাটারির আয়ু তো কমবেই কমবে। তখন চার্জারের সামান্য টাকা বাঁচাতে গিয়ে বড়ো টাকার ডন্ডি লেগে যাবে!
সফটওয়্যার ইনসটলে সতর্কতা
অনেকেই দেখি ইচ্ছেমতো সফটওয়্যার টেস্ট করার জন্য ইনসটল করে তারপরে কাজে না লাগলে আনইনসটল করে দেয়। এভাবে প্রতিদিন অনেক সফটওয়্যার ইনসটল এবং আনইনসটল চলতেই থাকে। আপনি হয়তো ভাবছেন আনইনসটল করে দিলেই তো কাজ শেষ ঐ সফটওয়্যার তো থাকছে না। কিন্তু সফটওয়্যার আনইনসটল করার পরেও অনেক ফাইল কম্পিউটারে থেকেই যায়, এভাবে বেশি সফটওয়্যার ইনসটল আর আনইনসটল চলতে থাকার ফলে অনেক অকাজের ফাইলে জমা হয় সিস্টেমে, ফলে সিস্টেম স্লো হয়ে যেতে থাকে।
