বান্দরবানে ধানখেতে বাদামি ঘাস ফড়িং!

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ২১:০২

সর্বস্বান্ত হচ্ছে কৃষক, কৃষি কর্মকর্তাকে শোকজ

 বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে কারেন্ট পোকার (বাদামি ঘাস ফড়িং) আক্রমণে দিশেহারা কৃষকেরা। পোকার আক্রমণে ফসলি জমির ধানখেত বিনষ্ট হচ্ছে। এরই মধ্যে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বাইশারী ব্লগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল আলমকে শোকজ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা জানান, চলতি বছর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। কৃষকের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠেছে ধানের খেত। ভালো ফলনের স্বপ্নও দেখছেন কৃষকরা। কিন্তু কারেন্ট পোকার (বাদামি ঘাস ফড়িং) আক্রমণে অনেক কৃষকের ধানখেত পুড়ে গেছে।

সরেজমিনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকাগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অনেক কৃষকের ফসলি জমির ধানখেত পোকার আক্রমণে মরে শুকিয়ে গেছে। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে ধানখেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ধান গাছের গোড়ায় কারেন্ট পোকা আক্রমণ করে অল্পসময়ের মধ্যে একরের পর একর সবুজ ধানখেত মুহূর্তে জ্বলছে শুকিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাইশারী ইউনিয়নের কৃষক জালাল আহাম্মদ বলেন, ধানখেতে পোকার আক্রমণের ব্যাপারটি তিনি বুঝতে পারেননি। হঠাত্ ধানের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাল হয়ে সব ধানখেত ঝলসে গেছে। কৃষক মো. ওসমান গনির অভিযোগ, দুই একর জমিতে ধানের চাষ করেছি। দীর্ঘদিন ধরে কৃষি কাজ করলেও পোকার আক্রমণে সোনালি ফসল ঘরে তোলা হলো না। কান্না জড়ানো কণ্ঠে কৃষক বলেন, ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ এবং সংসার কিভাবে চালাবো বুঝতে পারছি না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুর রশিদ বলেন, এবারের মতো ধানের রোগবালাই আগে কখনো দেখিনি।

এ ব্যাপারে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একে এম নাজমুল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ বেশি নয়, দুই হেক্টরের মতো। কারেন্ট পোকা হচ্ছে বাদামি রঙের ঘাস ফড়িং। এটি খুবই মারাত্মক। গাছের গোড়ায় আক্রমণের ফলে সহজে বোঝা যায় না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে ধানের গাছগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে মাটিয়ে শুয়ে পড়ে। কারেন্ট পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় প্রতি মঙ্গলবার একযোগে সারাদেশে রাতের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে পোকা দমনের কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসহ বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় কৃষি অফিসারদের সতর্ক করা হয়েছে। সজাগ দৃষ্টি রেখে পোকা দমনে কৃষকদের কার্যকর পরামর্শ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকা শনাক্ত করে পোকার আক্রমণ প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।