বন্দরনগরী চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল আনোয়ারা থানার ফুলতলী সৈকতে ক্রিস্টাল গোল্ড নামের জাহাজটি আটকা পড়েছে তিন বছর হলো; বর্তমানে জাহাজটির আশেপাশে বালির বিশাল চর জেগেছে। পাশে সমুদ্রে পর্যটকরা গোসল করে, ফুটবল খেলে, ছবি তোলে। পারকির চর ও ফুলতলী সৈকতে যাঁরা বেড়াতে আসেন, প্রত্যেকের মোবাইলে বা ক্যামেরায় জাহাজটি ঘিরে একটি হলেও ছবি থাকবেই। পর্যটকদের জন্য এটি দর্শনীয় হলেও আনোয়ারার উত্তর পরুয়া পাড়া (ফুলতলী) গ্রামের মানুষের জন্য এটি ভবিষ্যত্ আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বালুর চরে জাহাজটি আটকে থাকায় এর মধ্যেই সাগরেরও জোয়ারভাটা স্রোত ও গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ফলে জৈদ্দ্যের ঘাট, আল্লামা আহমদ হাসান হুজুরের বাড়ির রাস্তা, বাতিঘর রাস্তা থেকে জেলে ঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার সাগর চরের বালি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে। আগে যে বালির চরে শিশু-কিশোররা জোয়ার শেষে ক্রিকেট-ফুটবল খেলত, তা কাদামাটির কারণে সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এমনকি হাঁটাহাঁটিরও অনুপযোগী হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে জেলে ঘাট বা জাহাজকাটা ঘাটের পর থেকে হুজুরের বাড়িঘাটা পর্যন্ত বালির বস্তার বেড়িবাঁধও ভেঙে যাচ্ছে। জাহাজটি যদি দ্রুত সরানো না হয়, যে কোনো সময় সম্পূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করি, খুব শীঘ্রই আটকে পড়া জাহাজটি সরাতে উদ্যোগ নিয়ে আনোয়ারা উপকূল ও ফুলতলী (পারকি) সৈকতকে রক্ষা করা হবে।
মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম
উত্তর পরুয়া পাড়া, চুন্নাপাড়া, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম
