পাখিদের বাসা রক্ষায় রুল হাইকোর্টের

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:০৮

এবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের একটি আমবাগানে শামুকখোল পাখি রক্ষায় আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ঐ আমবাগানকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করলে ইজারাদারের কি পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে তা আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে। ৪০ দিনের মধ্যে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, বাঘা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। এছাড়া বাউসা গ্রামকে কেন অভয়ারণ্য                 ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। হাইকোর্ট বলেছে, কখনোই পাখির বাসা ভেঙে ফেলা ঠিক নয়।

‘পাখিদের বাসা ছাড়তে সময় দেওয়া হলো ১৫ দিন’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন গতকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, পাখিদের বাসা ছাড়ার সময় দেওয়া হয়েছে ১৫ দিন। এর মধ্যে পাখিরা বাসা না ছাড়লে তাদের বাসা থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি তাদের বাসা ভেঙেও দেওয়া হবে। এ ঘোষণা শুনে কেউ হয়তো রসিকতা মনে করতে পারে কিন্তু এটাই বাস্তব। ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে। এতে কয়েক হাজার শামুকখোল পাখি এই হুমকির মুখে পড়েছে। এতে আরো বলা হয়, রাজশাহীর আম ব্যবসায়ী আতাউর রহমান। তার ইজারা নেওয়া আমবাগানের গাছে গাছে শামুকখোল পাখিরা বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে। বাচ্চা পাখিগুলো এখনো উড়তে শেখেনি। কিন্তু বাগানমালিক এখন বাগানের পরিচর্যা করতে চান। পাখিপ্রেমীদের প্রতিরোধের মুখে তিনি মঙ্গলবার থেকে পাখিদের জন্য ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছেন। আতাউর রহমান বলেন, ৭ লাখ টাকা দিয়ে তিনি এই বাগান দুই বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। গত বছর পাখি থাকার কারণে তার আম নষ্ট হয়েছে। এবার আর তিনি তা হতে দেবেন না। এখনই তিনি আমগাছ পরিচর্যা করতে চান। এজন্য পাখির বাসা ভেঙে গাছে ওষুধ ছিটাতে চান।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী প্রজ্ঞা পারুমিতা রায়। পরে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করে।