ঢাকার দুই সিটির ভোট নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ইসি

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:২৯

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোটগ্রহণের তারিখ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকার দুই সিটির ভোটের পরিকল্পনা করেছিল ইসি। এক্ষেত্রে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণার চিন্তা ছিল। সেই মোতাবেক প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়। আর চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন হতে পারে মার্চের পরে। কিন্তু ডিসেম্বরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ায় ভোটের তারিখ পিছিয়ে জানুয়ারিতে যেতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি সরকারের গ্রিন সিগন্যালের ওপর নির্ভর করছে। তিন সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ভোটগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বৈঠকে বসছে কমিশন। বৈঠকে তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে মামলা থাকলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে ইসিকে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় এজেন্ডায় তিন সিটির ভোট রয়েছে। তবে সভায় তিন সিটির ভোটের সম্ভাব্য সময় বা তফসিলের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। আপাতত তফসিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঐ তিন সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনে তিনটি বিকল্পকে সামনে রেখে এগুচ্ছে কমিশন। ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা জানুয়ারি মাসে এবং মার্চের মাঝামাঝি সময় ভোট আয়োজনের চিন্তা চলছে। তবে মার্চের দিকে আয়োজন হলে ঢাকার দুই সিটির পাশাপাশি একই দিনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের ওপর। সরকারের পক্ষ থেকে যে পরামর্শ আসবে সেটাকেই বেছে নেবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে চলতি ডিসেম্বরে ভোট অনুষ্ঠানে সরকারের থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছিল কমিশন। ডিসেম্বরের একেবারে শেষদিকে ভোটের পরিকল্পনাও আছে ইসি। কিন্তু ডিসেম্বরের ২০ ও ২১ তারিখে সরকারি দল আওয়ামী লীগ তাদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়ায় পরিকল্পনায় ছেদ পড়তে পারে। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাকা সিটি নির্বাচন কিছুটা পেছানোর ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

দুই সিটির ভোট নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণ হিসেবে ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিসেম্বর মাসে দুই সিটিতে ভোট করার জন্য উপযুক্ত সময়। ঐ সময়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। আবার জানুয়ারিতে খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা এবং মার্চে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে। এ সময়ে নির্বাচন করতে চায় না কমিশন। পুরো বিষয়টি সরকারের সিগন্যালের ওপর নির্ভর করছে।

কমিশনের আজকের বৈঠকে তিন সিটির ভোটের বাইরে আলোচ্যসূচিতে আরো ছয়টি বিষয় রয়েছে। এগুলো হলো—জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন-২০১৯ এর খসড়া পুনর্বিবেচনা, গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণ, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য গোপনবিষয়ক নির্দেশনা এবং কমিশনের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা। জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন-২০১৯ এর সংশোধনী এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) সংশোধন করে আইনে রূপান্তর করার বিষয়ে সরকারের সায় নেই। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হলে তা ফেরত আসে।