ঝিনাইদহে কারেন্ট পোকার আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে ধান

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:১৭

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানে নানা প্রজাতির পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বাদামি ঘাস ফড়িংয়ের কারণে আক্রান্ত খেতগুলো এরই মধ্যে ঝলসে গেছে। এ পোকাকে চাষিরা কারেন্ট পোকা বলে থাকেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের চাষি রাজু আহমেদ বলেন, তাদের সাত বিঘা জমিতে আমন ধান আছে।  কয়েকদিন আগে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। শুধু তাদের জমিতে নয়। অন্য চাষির জমিতেও কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। তিনি জানান, সাধুহাটির (বিএডিসি) বীজ উত্পাদন খামারেও কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। একই উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামে কারেন্ট পোকার ব্যাপক আক্রমণ হয়েছে। মোশারফ হোসেন জানান, তার দেড় বিঘা জমির ধান কারেন্ট পোকায় নষ্ট হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার বরোপাকিয়া গ্রামের ওলিয়ার রহমানের ১২ কাঠা জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। বেলাট গ্রামের ফজলুর রহমানের ২৫ কাঠা জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। চাষিরা জানান, সন্ধ্যায় দেখে আসা ভালো ধান খেত, রাত শেষে সকালে গিয়ে দেখা যায় ঝলসে গেছে ধান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ঝিনাইদহ জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ১২৫ হেক্টরে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে  সাড়ে ১১ হেক্টরে বাদামি গাছ ফড়িংয়ের (কারেন্ট পোকা) আক্রমণ হয়েছে।

এ ব্যাপারে চাষিরা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, পোকার আক্রমণের পরিমাণ আরো অনেক  বেশি হবে। এছাড়া ধান খেতে মাজরা ও গান্ধি পোকারও আক্রমণ হয়েছে। কৃষি অফিস জানায়, ৩৩০ হেক্টরে মাজরা ও ৬১ হেক্টরে গান্ধি পোকার আক্রমণ হয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিএম আব্দুর রউফ বাদামি গাছ ফড়িংয়ের আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ পোকা দমনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ পোকা  ধান গাছের গোড়ায় অবস্থান করে। মেঘলা আবহাওয়া ও বৃষ্টি হলে অনুকূল পরিবেশ পেলে আক্রমণ শুরু করে। ধানের শিষের রস চুষে খায় আর ধান চিটে হয়ে যায়।