রয়টার্স
লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর মন্তেরোতে সরকার সমর্থক ও বিরোধীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ-সহিংসতায় কমপক্ষে দুই জন নিহত ও ছয় জন আহত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরুর আগে এ সংঘর্ষ ও সহিংসতা হয়। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও উত্তর-দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেট (ওএএস) এ নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করছে।
বৃহস্পতিবার বলিভিয়ার অন্যতম কৃষি ও শিল্প কেন্দ্র সান্তা ক্রুজের অন্তর্ভুক্ত মন্তেরোতে সংঘর্ষে ৫৫ বছর বয়সী মারিও সালভাতিয়েরা ও ৪১ বছর বয়সী মার্সেলো তেরাজাস নিহত হয়েছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। মন্তেরোর ঐ সংঘর্ষ-সহিংসতায় আরো ছয় জন আহত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। মোরালেসের সমর্থকরা এই ঘটনার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেছেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট থাকা মেসা এ অভিযোগ অস্বীকার করে মন্তেরোতে হতাহতের জন্য মোরালেসের সশস্ত্র সমর্থকদের দায়ী করেছেন।
আক্রান্ত হলে সমর্থকদের তাত্ক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ থামিয়ে দিতে এবং নিরাপদে সরে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মোরালেসের ১৪ বছরের শাসনামলে বলিভিয়ায় এমন সংঘর্ষ-সহিংসতা খুব একটা দেখা যায়নি। লাতিন আমেরিকার অন্যতম দরিদ এ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ছিল বেশ স্থিতিশীল।
২০ অক্টোবরের প্রথম রাউন্ডের ভোটে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ৪৭ দশমিক আট শতাংশ এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস মেসা ৩৬ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানায় বলিভিয়ার নির্বাচন কমিশন। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১০ শতাংশের বেশি হওয়ায় মোরালেসকে জয়ীও ঘোষণা করে তারা। বিরোধীরা এ ভোটের ফল মানতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের ভাষ্য, ২০০৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মোরালেসকে জেতাতেই ফল ঘোষণায় কারচুপি হয়েছে।
বুধবার বলিভিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েগো পেরি সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রথম রাউন্ডের ভোট নিয়ে ওএএসের নিরীক্ষার ফল মানতে সব রাজনৈতিক দলই বাধ্য। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এ নিরীক্ষা কার্যক্রম দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতেও আহ্বান জানিয়েছেন।
