ইবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতার চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ ফাঁস

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৬

 ইবি (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের বিতর্কিত সাবেক ছাত্রনেতা জুবায়ের আল মাহমুদের ৪ মিনিট ৯ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফাঁস হওয়া ঐ ক্লিপটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের নাম উঠে এসেছে। ক্লিপটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা কে কত টাকা কামিয়েছেন তার হদিস মিলেছে। বর্তমান বিদ্রোহী ছাত্রলীগ কর্মীদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, অবৈধ টাকার উত্স, নেতাদের গাঁজা ভাং ও মাল খাওয়ার আকুতি, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হওয়ার ব্যাপারসহ বিভিন্ন বিষয় এই অডিও ফাঁসে উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে জুবায়ের আল মাহমুদের কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপটি পাঠকের উদ্দেশে আংশিক তুলে ধরা হলো :

জুবায়ের : আরাফাতের কোন ছেলেপেলের গাঁয়ে হাত দেব না। আরাফাতের যে কটা কাজের ছেলেপেলে আছে, যারা গাঁজা খায় তাদের গাঁজা খাওয়ার টাকা দিতে হবে। যারা একটু মাল খায়, তাদের মাল খাওয়ার টাকা দিতে হবে। যারা হলের সুবিধা চায় তাদের হল সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু সেই কাজটা?

রাকিব : তাইলে আমি এখন কী করব? আমি এখন রাজু ভাইয়ের কাছে যাবো?

জুবায়ের : রাজু ভাই তোরে মেনে নিবে না।

রাকিব : কেন?

জুবায়ের: এই হলো মূল কথা। তোর একটাই কাজ পদত্যাগ করা।

রাকিব : রাজু ভাই কী চায়?

জুবায়ের : আমি ঐডা জানি না। কমিটি ভাইঙা দিতে কইছে। হালিম, শাহীনের কাছ থেকে টাকা খেয়েছে না রাজু। এই ক্যাম্পাস থেকে আট, দশ কোটি কামিয়েছে হালিম। ঐখান থেকে দুই কোটি খাইছে না রাজু। তুমি বুঝো না রাজনীতি?  তুমি যদি আমারে দুই কোটি টাকা দাও, তুমি আমারে মাইরা মার্ডার করলেও আমি তোমার কথা শোনব। আমি শিবির মারতাম। মেলা আগেত্তে আইজকের না সাইফুলের থে। মনে কর তোরে চাকরি দিলাম। বিশ লাখ পেলাম, চলে গেল পাঁচ লাখ। মনে করো গিভ অ্যান্ড টেক কোনো প্রমাণ নাই। দিছিস বিশ লাখ তুই আমারে? কোনো প্রমাণ নাই রেকর্ডিংও নাই, কিছু ছিঁড়তে পারবি তুই আমার? করার কিছু আছে? তুই পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চইলা যা। তোরে ভালো কিছু পদ দেবনে। আমার ভালো লাগে না ওগুলো। তোরে নিয়ে আর ওগো নিয়ে ভাবতে আর ভালো লাগে না। আমি যে তোরে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে দিলাম, তুই আমার কথা কখনো শুনিসনি, গুরুত্ব দিসনি। তোর রুমত্তে আমার সরাই দিছিস, আমার খারাপ লাগছে।

তুই তুহিনের কথা শোনলি। ...আমারে তো কোনোদিন আরাফাতেরা ভালোবাসেনি। আজগে ভালোবাসে, আমি রাজনীতি করি তাই। আমারে ইউজ করে। এখনো ইউজ করতেছে, অস্বীকার করার কিছু নেই।

রাকিব : আমি কী তোর সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করছি?

জুবায়ের : খারাপ ব্যবহার করিসনি। তোরে খারাপ বানানো হয়েছে মেইনলি। তোরে কোনোদিন কইছি আমি বোকা? তুই কী মনি করিস আরাফাত, খসরুর ভরসায় আমি ঢাকায় চষে বেড়াই? তোর মনে হয় তাই? খসরু, আরাফাত আমার টাকা দেয়? টাকা দেয় আমার কাকা আবু বকর হোসেন জামাল। কালকেও পাঁচ হাজার টাকা লাগিছে। আমি জানি আমি থাকলে তুই ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবি। এই বিশ্বাস আমার আছে বন্ধু কিন্তু আমি মার্ডার হয়ে যাবো বন্ধু। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবো, বউ-বাচ্চা আছে বুঝছিস। নাইলে মনে কর হানিফ আবার মামলা টামলা দিয়ে... বুঝছিস?। তুই কী চাস আমি মার্ডার অইয়া যাই? আমি তোরে কথা কইলে, বাস্তব কথা কইলে তুই বিশ্বাস করবি? মনেত্তে কতা কইলে, আমি কতা কইলে তোর চোখে পানি চইলা আইব। আমার বোকের ভেতর অনেক যন্ত্রণা আছে। আমার যন্ত্রণার চেয়ে আমার বোকে অনেক অভিমান। আমার দুঃখ-কষ্ট আল্লাহ ছাড়া কেউ দেখে না,  সত্যি কথা বললাম।

জুবায়ের আল মাহমুদ বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন—আমাদের দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে। কীভাবে বাইরে এলো আমার জানা নেই।