বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের কার কী ভূমিকা ছিল তা নিরূপণ করা হচ্ছে। এই মামলার চার্জশিট চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দাখিল করা হবে। গতকাল শুক্রবার তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) হলে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আবরার হত্যাকাণ্ডের জন্য ছাত্র রাজনীতি না মূল্যবোধের অবক্ষয়, কোনটি দায়ী’—শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠানে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় যা-ই হোক, মূলত তারা দুর্বৃত্ত ও অপরাধী। রাজনীতি থেকেও তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা এই মামলার চার্জশিট নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দাখিল করব। সেখানে প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্ট হিসেবে সিসিটিভি ফুজেটও দাখিল করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো ছাত্র সংগঠন অন্য ছাত্র বা সাধারণ কাউকে হত্যা বা মারধরের নির্দেশ দেয় না। বরং রাজনীতির প্ল্যাটফরমকে ব্যবহার করে কেউ কেউ নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে থাকে। এটা রাজনীতির দায় নয়। বরং ঐ সব অপরাধী দুর্বৃত্তের দায়।’
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে ছায়া বিতর্কে অংশ নেন তেজগাঁও কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘আবরার হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা নিকৃষ্টতম অধ্যায়। আমরা প্রত্যাশা করি দোষীদের বিচার অতিদ্রুত সম্পন্ন হবে।’
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েক জন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের করিডর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় আবরারের বাবা বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা করেন।
বিতর্ক অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশিদ, উপকর কমিশনার মেহেদী হাসান তামিম প্রমুখ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
