তানভীর আহাম্মেদ
টিকলু ভাই, সম্প্রতি তার ছোটভাইয়ের বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন। কোনো এক মাধ্যমে পাত্রী পছন্দও হয়েছে। কিন্তু পাত্রী নিয়ে বেজায় জ্বালা। পাত্রীর নাকি পছন্দ আছে। এ নিয়ে পাত্রীর বান্ধবী টিকলু ভাইয়ের ছোটভাইকে ফোন করে। ঘটনা টিকলু ভাইও জানতে পারেন। কিন্তু তার ছোট ভাই এই বিয়ে করবেই। কারণ মেয়ে অসম্ভব রকমের সুন্দরী। টিকলু ভাই নিজেও তাকে বুঝিয়েছেন, পাছে ঝামেলা হবে! কিন্তু কে শুনে কার কথা।
সেদিন বিকালে সেই ছেলে বাহিনী নিয়ে টিকলু ভাইয়ের বাসায় এসে হুমকি-ধমকি দিয়ে যান। সেই ঘটনার টিকলু ভাই ভয় পেলেও ভাই তার একদম অনড়। কারণ ঐ একটাই, মেয়ে অসম্ভব রকমের সুন্দরী। এদিকে টিকলু ভাইয়ের বাসায় সিসি ক্যামেরা আছে। তাই ছেলেদের হুমকি-ধমকির সিসি ফুটেজ নিয়ে টিকলু ভাইয়ের ভাই থানায় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ছেলেগুলো পুলিশের হাতে আটকসহ ভালোই ধোলাই খায়। এরপর থেকে টিকলু ভাই মোটামুটি চিন্তামুক্ত। তাই আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে ভাইয়ের বিয়ের খরচাদি করতে লাগলেন। আত্মীয়দের নিজেই দাওয়াত দিচ্ছেন তিনি। বিয়ের আর দুই দিন। তাই সারাদিন বিয়ে উদ্দেশ্যে পরিশ্রম করে রাতে ক্লান্ত হয়ে ডাইনিংয়ে বসেন তিনি। এমন সময় তার ছোট কাঁদতে আসেন, ‘ভাইয়া এই বিয়ে করব না আমি!’
—কী বলিস! সব ঠিকঠাক। আর এখন কিসের নাটক এসব?
—ভাইয়া ঐ মেয়ে কল দিয়েছিল। তার কথা শুনে আমি বুকে ব্যথা পাচ্ছি। প্লিজ এই বিয়ে বাদ দাও।
—কী বলেছে সে?
—তার নাকি প্রতিদিন ৫০০ গ্রাম পেঁয়াজ চুলের যত্নের জন্য লাগে। আর খাবারের সময় সালাদ হিসেবে পেঁয়াজ ছাড়া নাকি তার চলেই না। রান্নায় পেঁয়াজ বাটা বেশি দেওয়া নাকি তার জন্মগত শিক্ষা।
—ভাই, তুই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিস। এই বিয়ে আমি পণ্ড করতেছি।
