স্পোর্টস রিপোর্টার
নিষেধাজ্ঞার রেশ এখনো কাটেনি। সাকিব আল হাসানকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভক্তরাও চেষ্টার কোনো কমতি রাখছেন না। অনলাইন কিংবা অফলাইন—সব জায়গাতেই সমানভাবে চলছে প্রতিবাদ। কোনো কোনো সমর্থকগোষ্ঠী মানববন্ধনও করছেন। যদিও সাকিব নিজে ভক্তদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড আইডিতে এই ব্যাপারে লম্বা এক পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সেখানে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘শুরুতেই বলতে চাই, এই খারাপ সময়ে সকল ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী যে নিঃস্বার্থ সমর্থন, ভালোবাসা নিয়ে আমার এবং আমার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। শেষ কয়েকদিনে দেশের হয়ে মাঠে নামার গুরুত্ব আমি আরো ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমার ওপর শাস্তি আরোপিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ সকল ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি।’
জুয়াড়ির প্রস্তাবে সায় দেননি তিনি। তবে হোয়াটস অ্যাপে দীপক আগারওয়ালের সঙ্গে তিন বার চ্যাটিং চালিয়ে গেছেন তিনি। নিয়ম মেনে আইসিসির কাছে এই ব্যাপারে জানাননি। এখানেই ফেঁসে যান তিনি। তবে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ আইসিসির তদন্ত চলাকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পুরো সমর্থন পেয়েছেন তিনি।
সাকিব লিখেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আইসিসি আকসুর পুরো তদন্তটাই ছিল অত্যন্ত গোপনীয় এবং আমার ওপর শাস্তি আরোপিত হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে বিসিবিকে আমি এ ব্যাপারে জানাই। দেরিতে জানলেও এমন পরিস্থিতিতে বিসিবিই আমাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে। তাই বোর্ডের প তি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আইসিসির পূর্ণাঙ্গ রায়েই বলা আছে, সাকিব এই শাস্তির বিরুদ্ধে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন না। কদিন আগেই শেষ হওয়ার বিশ্বকাপে ৬০৬ রান ও ১০ উইকেট পাওয়া এই ক্রিকেটারও এই সাজা মাথা পেতেই নিয়েছেন। এই ব্যাপারে তিনি লিখেছেন, ‘যারা এই কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ। মনে রাখতে হবে, পুরো ব্যাপারটিই একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই সম্পন্ন হচ্ছে। যেহেতু ঐ সময়ে আমি আমার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারিনি তাই আমিও আমার ওপর আরোপিত শাস্তি মাথা পেতে নিয়েছি।
সাকিবের নির্বাসন শেষ হবে আগামী ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর। মানে ৩০ অক্টোবরই চাইলে মাঠে নেমে যেতে পারবেন তিনি। সাকিবও এখন মনেপ্রাণে সেই ফেরার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তিনি লিখেছেন, ‘২০২০ সালে বাংলাদেশের হয়ে আবার মাঠে নামার কথা ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছুই ভাবছি না আমি। ততদিন পর্যন্ত আপনাদের দোয়া আর প্রার্থনায় আমাকে রাখবেন বলেই আশা করছি।’
