স্পোর্টস রিপোর্টার
জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ রাউন্ডে দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে প্রথম দিনে পারফরম্যান্সের দ্যুতিতে উজ্জ্বল সাদমান ইসলাম ও এবাদত হোসেন। ভারত সফরের টেস্ট দলে থাকা বাঁহাতি ওপেনার সাদমান সেঞ্চুরি করেছেন ঢাকা মেট্রোর হয়ে। সিলেটের হয়ে ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি পেসার এবাদত।
চট্টগ্রামে সাদমানের সেঞ্চুরিতেই স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে বড়ো স্কোর গড়ার পথে ঢাকা মেট্রো। গতকাল প্রথম দিন শেষে ঢাকা মেট্রোর সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৫৭ রান। সাদমান ১৬২ ও জাবিদ হোসেন ৭ রানে অপরাজিত আছেন। কক্সবাজারে সিলেটের এবাদতের বোলিং তোপে গতকাল বরিশালের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ১৬২ রানে। শেষ বিকালে সিলেট ১ উইকেটে ৮২ রান তুলেছে। শানাজ আহমেদ ৩২ ও নাইটওয়াচম্যান এনামুল জুনিয়র ২ রানে ব্যাট করছেন। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বল হাতে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালোই ছিল। পঞ্চম ওভারে হাসান মাহমুদ বোল্ড করেছিলেন আজমীর আহমেদকে (০)। তারপর দিনের বাকি সময়টা কার্যত ঢাকা মেট্রোর ব্যাটসম্যানরাই দাপট দেখিয়েছেন। এক প্রান্ত আগলে গোটা দিন খেলেছেন সাদমান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। ১১০ বলে হাফ সেঞ্চুরি ও ১৮৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাদমান। সবার সঙ্গেই জুটি হয়েছে তার। সবচেয়ে বড়ো ১৬২ রানের জুটি গড়েছেন আল আমিন জুনিয়রের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে। আল আমিন জুনিয়র ৮৩, শামসুর ৫০, মার্শাল আইয়ুব ৪০ রান করেছেন। চট্টগ্রামের হাসান মাহমুদ দুটি উইকেট নেন।
কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের এক নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাট করা বরিশালকে শুরু থেকেই চাপের মধ্যে ফেলেন সিলেটের এবাদত। চতুর্থ ওভারে শাহরিয়ার নাফিস ও ফজলে মাহমুদকে ফেরান তিনি। পরে এবাদতের সঙ্গে দুই বাঁহাতি স্পিনার এনামুল জুনিয়র ও নাসুম আহমেদ যোগ দেন শিকার উত্সবে। ৩৫ রানে ৪ উইকেট হারানো বরিশালকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন নুরুজ্জামান ও সোহাগ গাজী। তাদের ৪৮ রানের জুটি ভাঙেন নাসুম। শুরুর ঐ ধাক্কাই বরিশালকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। তারপরও তাদের স্কোর ১৫০ পার হয়েছে নুরুজ্জামানের ৪০, সালমানের ২৫, সোহাগ গাজীর ২৩ রানে। এছাড়া আশরাফুল ২০, মনির হোসেন ১৮, রাফসান ১০ রান করেন। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট পান এবাদত। সিলেটের নাসুম ৩টি, রাহী, এনামুল জুনিয়র ১টি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা মেট্রো-চট্টগ্রাম বিভাগ
ঢাকা মেট্রো: ৯০ ওভারে ৩৫৭/৪ (সাদমান ১৬২*, জাবিদ ৭*, আল আমিন জুনিয়র ৮৩, শামসুর ৫০, মার্শাল আইয়ুব ৪০; হাসান মাহমুদ ২/৬৫, মেহেদী হাসান রানা ১/৫৯, নাঈম হাসান ১/৯৭)
বরিশাল-সিলেট বিভাগ
বরিশাল: ৫৭.১ ওভারে ১৬২ (নুরুজ্জামান ৪০, সালমান ২৫, সোহাগ গাজী ২৩, আশরাফুল ২০, মনির হোসেন ১৮, রাফসান ১০; এবাদত ৫/৩৬, নাসুম আহমেদ ৩/৫৭, আবু জায়েদ রাহী ১/২৪, এনামুল জুনিয়র ১/৩৫)
সিলেট: ৩২ ওভারে ৮২/১ (ইমতিয়াজ ৪৮, শানাজ ৩২*, এনামুল জুনিয়র ২*; রাফসান ১/৬।
