ঔষধি গুণসমৃদ্ধ একটি উদ্ভিদ। উচ্চ রক্তচাপের মহৌষধ। আয়ুর্বেদিক চিকিত্সায় ব্যবহূত হয়ে আসছে। সর্পগন্ধার ভেষজগুণের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। চড়ক সংহিতাতেও এর ভেষজ গুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে।
সর্পগন্ধা Apocynaceae পরিবারের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ, বৈজ্ঞানিক নাম Rauwolfia serpentina। উদ্ভিদটি বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায়সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জন্মে। নাকফুলি, ছোট চাঁদ, সর্পাদনী, নাকুলি, সুগন্ধা, রক্তপত্রিকা, ঈশ্বরী, অহিভুক, সর্পক্ষী, চন্দ্রিকা, পাতালগারুদা, ধনবরুয়া প্রভৃতি নামে পরিচিত। পাতা সরল, লম্বাটে, অগ্রভাগ সরু, উজ্জ্বল বর্ণের হয়ে থাকে, পাতার অগ্রভাগ সরু। ফুল প্রথম অবস্থায় সবুজ রঙের হয়। ফুল সাধারণত ১.৫ সেন্টিমিটার লম্বা আর পাপড়িগুলোতে সাদা বা হালকা গোলাপি, একটু বেগুনি রঙের ছোপ থাকে। ফুল ফোটে গুচ্ছাকারে। পুষ্পবৃন্ত গাঢ় লাল বর্ণের হয়ে থাকে। ক্ষুদ্রাকৃতির ফল জন্মে যা পরিপক্ব হলে কালচে বর্ণ ধারণ করে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে ফুল ফোটে ও বর্ষাকালে ফল পাকে।
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সর্পগন্ধা গাছের শিকড় ও পাতা ব্যবহার হয়। সর্পগন্ধার মূলে ইনডোল অ্যালকালয়েড রয়েছে—যাতে রেসার্পিন, রেসিনামিন, অ্যাজমালিনিন, সার্পেনটিন রিসারপিন, ডিসারপিডিন, রেসিনামিন ইত্যাদি উপাদান রয়েছে। অন্যান্য উপাদান আজমলিন, আজমালিসিন, সার্পেন্টাইন, অলিওরেসিন, আনস্যাচুরেটিভ ও অ্যালকোহল। এছাড়াও স্টেরল, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, অলিক অ্যাসিড, ফিউমারিক অ্যাসিড, গ্লুকোজ, রেজিন, খনিজ লবণ, স্টার্চ ইত্যাদি। মূল চূর্ণ করে অল্প পরিমাণ খেলে উত্তেজনা প্রশমিত হয় ও ঘুম ভালো হয়। এটি উত্তেজনানাশক ও নিদ্রাকারক হিসেবে অতুলনীয়। দৈহিক দুবর্লতা, মানসিক অবসাদ, হাইপারটেনশন, ইনসমোনিয়া, জ্বর, বাতজ্বর এবং ব্যথাবেদনায় সর্পগন্ধার মূলচূর্ণ অত্যন্ত ফলপ্রদ। সাপের বিষসহ নানা ধরনের কীটপতঙ্গের বিষক্রিয়াকে ধ্বংস করতে সর্পগন্ধা ব্যবহার হয়ে থাকে।
