চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় নবগঙ্গা নদীর মূলবেডে যুব কমপ্লেক্সের একাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে নদীর পুনঃখনন কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নদী পুনঃখনন কাজ বন্ধ হওয়ার মূল কারণই হলো বহুতল ভবন নির্মাণ। সূত্র জানায়, জেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নদীগুলো খনন করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ মেলে ৩৭ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে নবগঙ্গা নদী পুনঃখনন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত এই নবগঙ্গা নদীটির ১৪ কিলোমিটার অংশ খনন করা হবে। এই কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের গত ১৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান,শহরের ইসলাম পাড়ার শ্মশান মোড় থেকে নবগঙ্গা নদীটি পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৩০ শতাংশ। কিন্তু প্রবহমান এই নদীটির ঠাকুরপুর মসজিদ নামক স্থানে খনন কাজ থেমে গেছে। কারণ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ঐ ঠাকুরপুর মসজিদের কাছে নদীর মধ্যবর্তী বর্তমানের পানিশূন্য মূলবেডে অল্প কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবহিত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও। ঐ নির্বাহী প্রকৌশলী আরো জানান, নদীর মূল স্রোতধারা অব্যাহত রাখতে যে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে নদী খনন কাজ কোনোভাবেই থেমে থাকবে না।
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের চুয়াডাঙ্গা অফিস সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গায় যুব উন্নয়ন কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পক্ষ থেকে জায়গা খোঁজ করলে নূরনগর গ্রামের এই জায়গাটি নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত করা হয়। পরে চুয়াডাঙ্গার তত্কালীন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় ১১ জন জমির মালিকের কাছ থেকে দুই একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। এজন্য জমির মূল্য বাবদ অধিদফতরকে গুনতে হয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আলোচ্য অধিগ্রহণকৃত এই জমিতে যুব উন্নয়ন কমপ্লেক্সের বহুতলবিশিষ্ট কয়েকটি ভবনের মধ্যে রয়েছে অধিদফতরের একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি প্রশিক্ষণ ভবন, ভিন্ন ভিন্ন একটি অফিসার ও একটি স্টাফ কোয়ার্টার এবং ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দুটি হোস্টেল।
চুয়াডাঙ্গা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক মাসুম আহমেদ জানান, গত কয়েকদিন আগে তারা জানতে পেরেছেন, অধিগ্রহণ করা জায়গাটি নবগঙ্গা নদীর। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তারাও বিব্রত ও উদ্বিগ্ন। উপপরিচালক বলেন, গোটা বিষয়টি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এদিকে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের কাছে বিক্রি করা ১১ ব্যক্তি বলছেন তারাই ঐ জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন। এদের মধ্যে সালাউদ্দীন মো. মর্তুজা নামের একজন বলেন, এসব তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। বিভিন্ন রেকর্ড ও দলিলপত্রও তাদের নামে। সব কাগজপত্র পরীক্ষা করেই যুব উন্নয়ন অধিদফতর কর্তৃপক্ষ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ঐ জমি অধিগ্রহণমূলে দখল নিয়েছেন। আক্তারুজ্জামান মজনু নামের অপর একজন জানান, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে খুব শিগগির তারা আদালতের শরণাপন্ন হবেন। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, নদী দখলকারীদের পরিচয় দখলকারীই। তাদের অন্য কোনো পরিচয় থাকতে পারে না। দখলকারীরা সরকারি-বেসরকারি অথবা ব্যক্তিপর্যায়ের যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং তা অব্যাহত রাখতে যে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
