গতকাল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়েছে। এসময় দাঙ্গাবাজরা ২৫/২৬টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেয়। দাঙ্গাবাজদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নে বুল্লা গ্রামের হুগলি বিল জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেয় স্থানীয় বড়ো উঠান মত্স্যজীবী সংগঠন। বুল্লা গ্রামের সাবেক মেম্বার ফুল মিয়া ও বর্তমান মেম্বার কাওছার মিয়ার কাছে কয়েক দিন আগে ঐ সংগঠন বিলটি মৌখিকভাবে সাব-ইজারা দেয়। ইজারা নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে তারা পাশের পাইকপাড়া, হাজিপুর ও হাতরীপাড়া গ্রামের জমিতে কয়েক দিন আগে বাঁধ নির্মাণ করলে পাইকপাড়া গ্রামের কাসেম মেম্বার ও রাজু সরদারের নেতৃত্বে এক দল লোক বাধা দেয়। এনিয়ে গত শনিবারও সংঘর্ষ হয়েছিল।
এর জের ধরে গতকাল সকাল ১০টার দিকে উভয় পক্ষের কয়েক শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়। আহতরা গ্রেফতার আতঙ্কে জেলা ও পাশের মাধবপুরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিত্সা নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে অর্ধশতাধিক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে।
সংঘর্ষের সময় দাঙ্গাবাজরা বুল্লা, হাজিপুর, পাইকপাড়া, হাতরীপাড়ার কমপক্ষে ২৫/২৬টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং হাজিপুর গ্রামের পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শাহজাহান মাস্টার ও শাহজাহান মিয়াকে আটক করেছে। বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহের নিগার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজিম নোমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
