গত কয়েক বছর পর এবার সিলেটে ব্যাপকভাবে কমলার চাষ করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কাচা কমলা এখনো পাকেনি। বর্তমানে বাজারে সবুজ কমলার হালি ৭০-৮০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান একমাস আগে থেকেই বাজারে কাচা কমলা উঠতে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেটে যে পারিমাণ কমলা উত্পাদন হয় তাতে চাহিদা পূরণ হয় না। বেশির ভাগ কমলা আমদানি হয়ে আসে ভারতের মেঘালয় ও ভুটান থেকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহজাহান জানান, দেশে লেবু জাতীয় ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যায়ে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করেছে সরকার। সিলেটের বিয়ানীবাজার, জাফলং ও মৌলভীবাজারের জুড়ী সহ পাহাড়ি এলাকায় কিছু কমলার গাছ রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে ফলন ভালো না হলেও এখন কোনো কোনো স্থানে নতুনভাবে লাগানো কমলা গাছে ভালো ফলন হচ্ছে। অনেক চাষি আবার নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার আড়াই একর জমির ওপর ৮ শত গাছের কমলা বাগান। গাছে গাছে কাচা পাকা কমলা-নয়ন কাড়া দৃশ্য। গত বছর তিনি এই বাগান থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
তিনি বলেন, গোবর, ডলোচুন, পোকা দমনসহ সঠিক পরিচর্যা নিলে ফলন ভালো হয়। এবার ভৈরবের ব্যবসায়ীদের নিকট ১২০ টাকা কেজি দরে কিছু কমলা বিক্রয় করেছেন। তিনি আশা করছেন কমলা পুরোপুরি পাকলে আড়াই লাখ টাকার বেশি কমলা বিক্রয় করতে পারবেন।
মুর্শেদ ইত্তেফাককে জানান, এই মৌসুমি ফলটি বিক্রয় করে তারা লাভবান।
গোয়ালবাড়ী গ্রামের মানিক মিয়া, জয়নুল, রহিমা বেগম, দিশা বেগম, অজু মিয়া ইউনুসসহ অন্তত একশ পরিবার কমলা চাষ করেছেন। তারা প্রত্যেকেই বলেন, সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সিলেটে লুপ্ত কমলার গৌরব আবারও ফিরিয়ে আনা সম্ভব। চাষিরা বলেন, ফাল্গুন মাসে কমলার ফুল ধরে। কার্তিক, অগ্রহায়নে ফলন ঘরে তোলা যায়। তবে যতো শীত পড়বে-কমলার রং হবে আকর্ষণীয় ও মিষ্টি।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহজাহান জানান, সিলেটের বিভিন্ন টিলা ভূমিতে ব্যাপকভাবে কমলা চাষ করলে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো। কমলা চাষিরা জানান, আদিকাল থেকে পাহাড়ি অঞ্চল বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, জৈন্তা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গলে কমলা বাণিজ্যিকভাবে উত্পাদন ও বিপণন হত। এখন আর সেই দিন নেই। কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীরা বিশাল কমলা বাগান বিনষ্ট করে দিয়েছে। চাষিরা বলেছেন বাগানগুলো ঠিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন।
