স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা। এতিমদের লালন-পালনের জন্য রাজধানীর লালবাগে অবস্থিত এতিমখানাটি ১৯০৯ সালে খান বাহাদুর সলিমুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য এতিম ছাত্রছাত্রীর দায়িত্ব নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে জনবল সংকটের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এতিমখানাটি। সরেজমিন দেখা যায়, এতিমখানার ১২টি কার্যকরী পদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ১০টি পদই শূন্য। এতিমখানার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধান ১২টি পদ হলো—তত্ত্বাবধায়ক, উপসহকারী তত্ত্বাবধায়ক, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, গণসংযোগ কর্মকর্তা, স্টোর কর্মকর্তা, সহকারী স্টোর কর্মকর্তা, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, চিকিত্সক ও অর্থ সংরক্ষণ কর্মকর্তা।
এছাড়া সহকারী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এক জন মহিলা ও এক জন পুরুষ থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু এ পদগুলোর মধ্যে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও সহকারী স্টোর কর্মকর্তা ব্যতীত বাকি সবগুলো পদই শূন্য।
জানা যায়, হাইকোর্টের নির্দেশনা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ কয়েক বার উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও এ পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মে মাসে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। জনবল সংকট নিরসন না করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (কার্যক্রম) বদরুল লাইলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে এ সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছি। এতিমখানার অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা থাকার কারণে এতদিন এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। তবে শিগিগরই এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
এতিমখানা সূত্রে জানা যায়, একটি ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে এতিমখানার চলমান একটি মামলা থাকায় এতিমখানার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ ডেভেলপার কোম্পানিটি বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারে চেষ্টা করছে। এ মামলার জের ধরে এতিমখানার পক্ষে যারা মামলা পরিচালনা করছেন, তাদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদীরা।
মামলার বাদী ও এতিমখানার সাবেক ছাত্র ছেলামত খাঁ বলেন, এতিমখানার একটি সুবিধাভোগী পক্ষ এবং ডেভেলপার কোম্পানি চায় না এতিমখানা ভালোভাবে চলুক। তাই তারা বিভিন্নভাবে এতিমখানার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমনকি মামলা করার কারণে আমাদের একাধিকবার হেনস্তা এবং মারধরের শিকার হতে হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট থাকার কারণে এতিমখানার শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে প্রশাসনিক প্রধান তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় এতিমখানার কোনো ধরনের উন্নয়ন কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না। এতিমখানার কয়েক জন শিক্ষক এবং বর্তমান ও সাবেক কয়েক জন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, এতিমখানার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আইনজীবী ফরহাদ আহমেদ সিদ্দিকী কোম্পানিটির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এতিমখানার সম্পদ লুট করার পাঁয়তারা করছেন এবং সার্বিক কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তার কারণেই জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ফরহাদ আহমেদ সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, ‘নিয়মকানুন ছাড়া তো কোনো নিয়োগ হতে পারে না। আমি বাধা না দিলেও অন্যরা বাধা দেবে। বহিষ্কৃত ছাত্রদের চাইলেও তো আর নিয়োগ দেওয়া যায় না।’
