কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ২৬ কোটি টাকার অনিয়ম!

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৮

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়াধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগার, ঢাকা (সিএমএসডি)-তে পণ্য আমদানির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে এবং জাতীয় ঔষধ নীতি উপেক্ষা করে বাজারমূল্য অপেক্ষা অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্যে ঔষধপত্র ও চিকিত্সা সরঞ্জামাদি কেনায় মোট ২৬ কোটি টাকার অধিক আর্থিক ক্ষতির অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি (পিএ কমিটি)। ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংঘটিত এই অনিয়মের বিষয়ে সিএমএসডির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান কবীর খান গতকাল সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজে বক্তব্য দিয়েছেন। সিএমএসডির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন সন্তানের অসুস্থতার জন্য বিদেশে যাওয়ায় অনিয়মের বিষয়ে নিজের বক্তব্য প্রদানের জন্য কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর কাছে সময় চেয়ে পুনরায় আবেদন করেছেন। বক্তব্যে আরো বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটি, শিক্ষা বিভাগ এবং ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষ অবকাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতের ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের মনোযোগী, নিষ্ঠাবান, আন্তরিক থাকতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ হিসাব ইহকাল-পরকাল সব সময়ই দিতে হয়।

তিনি বলেন, সময় বা সরকার পরিবর্তন হলে দেখা যায় কাজে দুর্নীতি বা অনিয়ম-আত্মসাতের দায়ে মামলা-মোকদ্দমার উদ্ভব হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অর্থের অভাব নেই। এ অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়। এ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য, অপচয়, আত্মসাত্, দুর্নীতি আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের পাঠ্য-পুস্তকভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করে জীবনের কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী শিক্ষার প্রচলন দরকার। আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করলে সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে দীর্ঘ ৩৪ বছর আমরা যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আসছি তার সুফল দৃশ্যমান। এই সাফল্যকে ধরে রাখতে আমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, যাতে আরো বেশি বেশি অর্জন হয়।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলমসহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিরা বক্তব্য দেন। এরপর আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এখানে তিনি বলেন,  যে কোনো মূল্যে উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম সভায় সভাপতিত্ব করেন। এরপর ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এক সভায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বক্তব্য দেন।

এসব কর্মসূচিতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু, উপজেলা জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা জেপির সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির বাবুল তালুকদার, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম পান্না, তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন, জেপি নেতা ইউসুুফ আলী আকন, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শেষে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষা উপকরণ এবং নারী সংগঠনের নেত্রীদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।   

রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের শিয়ালকাঠি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের এমপিওভুক্তি হওয়ায় আয়োজিত দোয়া ও শোকরানা মোনাজাতে অংশ নেন।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান, পিরোজপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান খালেক, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু, কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুল হক পান্না প্রমুখ।