৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে
সুন্দর ছোটো একটি বাগান
করা যায়
—আফসানা আফরিন
আফসানা আফরিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি তিনি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। রান্না করেন। রান্না করা খাবার অনলাইনে বিক্রি করেন। রান্না করা তার শখ। শখ থেকেই এখন তার আয় হচ্ছে। ৮ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন আফসানা। ফেসবুকে তার ‘অবসরের দিনলিপি অ্যালবাম খুব জনপ্রিয়। বর্তমানে পাঁচ জন কো-ওয়ার্কার নিয়ে কাজ করছেন আফসানা। অবসরের দিনলিপিতে পাওয়া যায় ফুড আইটেম। নবাবি সেমাই, শ্রিখান্দ, মিষ্টি নিমকি পিঠা, মুগ পাকন পিঠা, গরুর কালাভুনা, স্পাইসি চিকেন, পোলাও রোস্ট লাঞ্চ বক্স ইত্যাদি, যা ৪৫-২১০০ টাকার মধ্যে। ফুড আইটেমের চাহিদা বেশি। তবে ডেলিভারি দিতে অনেক সমস্যা। কারণ বাংলাদেশে ফুড ডেলিভারি দেয় এমন কোম্পানি খুব কম বলে জানা যায়। আর ডেলিভারি চার্জ অনেক বেশি, যা ক্রেতাদের অনলাইনে খাবার নিতে অনেকটাই নিরুত্সাহিত করে। চুইঝাল নির্বাচিত ১০০ রান্না বইয়ে তার দুটি রেসিপি স্থান পেয়েছে। দৈনিক জাতীয় সংবাদপত্রের লাইফস্টাইল পাতায়ও তার রান্নার রেসেপি প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া COOKUPS Zerocal Dessert Contest 2019 এ টপ ১৬ এর মধ্যে তিনি ছিলেন। আফসানা পরিবেশ সুরক্ষায়ও কাজ করেন। তেলের বোতল, চিপস এর প্যাকেট, পানির বোতল, দইয়ের হাঁড়ি আমরা তো ফেলেই দেই। অথচ আফসানা এগুলোতে বাগান করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এ বিষয়ে আফসানা আফরিন আর্থি বলেন, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে চাইলেই প্লাস্টিক এর ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা যাবে না। বিকল্প না আসা পর্যন্ত প্লাস্টিকের ব্যবহার থাকবেই। তবে রিইউজ করে কিছুটা হলেও দূষণ কমানো সম্ভব। অর্থনীতিক ক্ষতি লাঘব করা যায়। গত এক বছরে আর্থি অসংখ্য গাছ লাগিয়েছেন। মাত্র তিন থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে সুন্দর ছোটো একটি বাগান করা যায়। নিত্যনতুন আইডিয়া, উদ্ভাবনী চিন্তায় আর্থির জুড়ি নেই। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৯ আর্গানাইজ বাই YOUTH OPPORTUNITIES, DAILY STAR চ্যাম্পিয়ান হন তিনি। ফেসবুকে আর্থি প্রতিষ্ঠা করেন GREENHOPER. গ্রুপ। যার সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার। ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড পোডাক্ট। ফলে Aarong Dairy Yoghurt Tub Contest ব্যাক সেরা পাঁচে তিনি স্থান পান। ইউটিউবে আর্থির একটি চ্যানেল আছে। নাম BONG CRAFT BY AFSANA.
সামর্থ্যানুযায়ী আমার কাজের
নিদর্শন রেখে যেতে চাই
তরুণ সমাজের জন্য
—ইশরাত জাহান
বরিশালের মেয়ে ইশরাত জাহান। ছোটোবেলা থেকেই তার কাগজ দিয়ে এটা সেটা বানানোর প্রতি ঝোঁক। বিভিন্ন ধরনের ফুল, নৌকা, প্রজাপতি, পাখি, বিড়াল, মাছ, ব্যাঙ তৈরি করতেন। মুগ্ধ হয়ে আশেপাশের সবাই তা দেখত। ছোটোকালের এ শখ এখন বড়োবেলায় আর শখ নেই। শখ থেকে সাফল্য এসেছে আবার আয়ের উত্সও। কাগজ দিয়ে ব্যতিক্রমী সব জিনিস বানাচ্ছেন তিনি। স্নাতক শেষ করেছেন কিছুদিন হলো। পড়াশোনার পাশাপাশি তার পার্পল নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মা-বাবার সঙ্গে বরিশালে তিনি থাকেন। ফেলনা সব জিনিস দিয়ে প্রথম স্ক্রাপবুক বানান তিনি। জুতার বক্স দিয়ে বানানো হয় মূল কাঠামো।
ইশরাত জানালেন, তার স্ক্রাপবুকের ৭০ পারসেন্ট জিনিসই ফেলনা। যেমন পুরোনো জুতার বক্স, পুরোনো ক্যালেন্ডারের কাগজ ইত্যাদি। তবে অবাক কাণ্ড হলো, এই স্ক্রাপবুকের ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করতেই তুমুল সাড়া পড়ে। জানালেন তিনি। ইউটিউবে ইশরাতের Purple Handicrafts নামে একটি চ্যানেল আছে। ব্যতিক্রমী সব কাজের টিউটরিয়াল আছে সেখানে। পার্পল নিয়ে ইশরাত পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবসা শুরু করেন ২০১৭ সালে।
ইশরাত যেসব জিনিস বানান সেগুলো হলো মোমের ওপর ছবি সঙ্গে ছোটো একটা বার্তা অথবা, উইস টেক্ট, রিং বুক, ফোল্ডিং স্ক্র্যাপবুক, ফোল্ডিং কার্ড, ইভেন্ট/ পার্টির জন্যে প্রোপস, বার্থডে হ্যাট, বার্থডে ক্রাউন, ব্যানার, গেইন্ট ব্যাকড্রোপ ফ্লোয়ার, কেক টপার, যে কোনো ইনভাইটেশন কার্ড (জন্মদিন, বিয়ে, গায়ে হলুদ, পার্টিসহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের কার্ড), বার্থডে/এনিভার্সারি/ ফ্রেন্ডশিপ/মাদার্সডে/ফাদার্সডে/সরি কার্ড/থ্যাংকিউ কার্ড/ওয়েলকাম কার্ড/কনগ্র্যাচুলেট কার্ড/ঈদ কার্ড—এক কথায় যে কোনো ধরনের কার্ড, বিভিন্ন ডিজাইনের মোম, বুক মারক্স, মেমোরি ফ্রেম (একটা ফ্রেমের মধ্যে কিছু স্মৃতিময় ছবি থাকে সঙ্গে লাইটিং), কাগজের স্টিকার দেওয়ালে লাগানোর জন্যে, লাভ জার/ভালোবাসার ডিব্বা (একটি কাঁচের বোতলভর্তি মেসেজ ভালোবাসার মানুষটির জন্যে), ড্রিমক্যাচার, বিভিন্ন ডিজাইনের ডুডলস/শপিং ব্যাগ, উইডিং পেন, রিং বক্স, চকোলেট বক্স- এক্সপ্লোশন/বক্স কার্ডের মতোই শুধু ছবি আর মেসেজের পরিবর্তে থাকে চকোলেট (বর্তমানে এটার চাহিদাও অনেক), হেগজাগন বক্স ইত্যাদি। বেচাবিক্রির ব্যাপারটা পুরোটাই অনলাইনে।
ইশরাত জানালেন, ফেসবুক পেইজে অর্ডার নেওয়া হয়। কেউ ইউটিউব ভিডিও দেখেও অর্ডার করেন। ছবি দেওয়ার ব্যাপারে ব্যবহার হয় WhatsApp, Mail। ডেলিভেরি বরিশালের বাইরে হলে কুরিয়ার করা হয়। আয় কেমন হচ্ছে? প্রশ্ন শুনে মুখের কোণে ইশরাতের মুচকি হাসির রেখার দেখা মিলল। হাসিমুখেই তিনি বললেন, পেপার ক্রাফটে লাভ অন্য সব ক্রাফটিংয়ের থেকে ভালোই। চাকরির পাশাপাশিও এ কাজ করে বাড়তি আয় সম্ভব। স্টুডেন্টরাও পড়াশোনার পাশাপশি এ কাজ করতে পারে। তারা তো অনলাইনেই বেশি সময় কাটায়। এসব নিয়ে একটু স্টাডি করলে অসুবিধা কোথায়? ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইশরাত বললেন, নিজের সামর্থ্যানুযায়ী আমার কাজের নিদর্শন রেখে যেতে চাই তরুণ সমাজের জন্য।
—মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
