কেমন সমাবর্তন চাই

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:১৯

কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালে             শুভ যাত্রা শুরু করে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পেরিয়ে চৌদ্দতে পা রাখল  এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮-৯ ব্যাচ গ্রাজুয়েশন শেষ করে ফেললেও হয়নি কোনো সমাবর্তন। অবশেষে কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৭ জানুয়ারির প্রথম বারের মতো হতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের সমাবর্তন। এই নিয়ে সবার মধ্যে বইছে আনন্দের উচ্ছ্বাস। আর সমাবর্তন নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানান স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও মতামত

নিয়ে জানাচ্ছেন— সাইমন আহমেদ

সালেহা চৌধুরী শিলা  (প্রথম ব্যাচ)

আসলে সমাবর্তন নিয়ে প্রতিটা ছাত্র/ছাত্রীর একটা স্বপ্ন থাকে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রথম সমাবর্তন এটা। তাই সমাবর্তন নিয়ে অন্যরকম একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে। আমি চাই প্রথম সমাবর্তন এমন হোক যেন পরবর্তী সময়ে এটা সবার জন্য উদাহরণ হয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতির পর সমাবর্তনের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে সমাবর্তন বক্তা। ঢাবির ৫২তম সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে এমন বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রত্যাশা করছি। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরো সুন্দর করতে হবে।

মো. নাজমুল হাসান   (৮ম ব্যাচ)

বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের অনেক আকাঙ্ক্ষিত একটি দিন হলো সমাবর্তন। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে থাকেন এই দিনটির জন্য। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর শেষে ১৪ বছরে পর্দাপণের শুরুতে হতে যাচ্ছে প্রথম সমাবর্তন। প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে অনেক বেশি আগ্রহ নিয়ে এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করছে আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী। আমরা চাই প্রথম সমাবর্তন হিসেবে কতগুলো বিষয়ে আয়োজক কমিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এছাড়া সমাবর্তনে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সামগ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সুন্দর ও সফল সমাবর্তন প্রত্যাশা করি।

রনি মজুমদার  (৫ম ব্যাচ)

সমাবর্তনের বক্তা এটা একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন বিশেষজ্ঞ বা কোনো বিখ্যাত অধ্যাপক, যার থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি এবং অনুপ্রাণিত হতে পারি—এমন ব্যক্তিদের সমাবর্তন বক্তা রাখতে হবে। আবার অন্যথায় দেশের বিখ্যাত একজন অধ্যাপক বা বিখ্যাত একজন সাহিত্যমনা ব্যক্তি হতে পারে যার জন্য আমাদের এই সমাবর্তনটা আরো সুন্দর এবং সফলময় হয়ে উঠবে। আর সমাবর্তনে আমার সবচেয়ে যা ভালো লাগবে সেটা হলো অনেক দিন পর ক্যাম্পাসের বন্ধু, বান্ধবী, বড়ো ভাই, ছোটো ভাই এবং শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের সঙ্গে যে দেখা হবে এবং বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফিরা, আনন্দ করা, একসঙ্গে প্রোগ্রামে মজা করা।

তানভীর আহমেদ রাসেল  (১০ম ব্যাচ)

 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাজীবন শেষে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হোন। গায়ে কালো গাউন আর মাথায় ক্যাপ পরে এই বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে উঠেন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পর অবশেষে এই আনন্দের মহোত্সবে মেতে উঠতে যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। তাই আমি চাই, শিক্ষার্থীদের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং অনুসরণীয় করে রাখতে একটি জমকালো আয়োজনে সমাবর্তন উপহার দেওয়া হোক। সেইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগাতে একজন বিশ্বমানের অনুকরণীয় বক্তাকে সমাবর্তন কান্ত জরুরি।