কুমিল্লায় সড়কের পাশে ব্যাগে মিলল কিশোরীর লাশ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪২

কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে পরিত্যক্ত একটি ট্রলিব্যাগ থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া শানু বেগম নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অপরদিকে আছমা বেগম নামে আরো এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জেলার দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর গ্রাম, আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রাম এবং সোমবার রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুর গ্রামে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকালে হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় তারা মহাসড়কের পাশে একটি লাল রঙের ট্রলিব্যাগ দেখতে পায় এবং ব্যাগটি খুলে অজ্ঞাত এক কিশোরীর লাশ দেখে তারা থানায় খবর দেয়। পরে দেবীদ্বার থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। দেবীদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, নিহত ওই কিশোরীর গলায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে একই সময়ে শানু বেগম নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শানু বেগম ঐ গ্রামের ফরিদ মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় পুলিশ একই গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শানু বেগম তার রান্নাঘরে তেলের পিঠা তৈরি করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন তার রান্নাঘরে প্রবেশ করে। এতে শানু বেগম ঘরে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে দেলোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন রান্নাঘরে থাকা বঁটি দিয়ে শানু বেগমের গলায় আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক জানান, ঘাতক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

এছাড়া জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুর গ্রাম থেকে গত সোমবার রাতে পুলিশ আছমা আক্তার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ তার স্বামীর ঘর থেকে উদ্ধার করে। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, আছমার স্বামী নাছির হোসেন বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রায় সময় তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টিসহ ঝগড়ায় লিপ্ত হতেন। এ ধরনের নির্যাতন ও অত্যাচার সইতে না পেরে রাতে আছমা তার স্বামীর ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় গতকাল আছমার ভাই সজীব হোসেন বাদী হয়ে নাছির হোসেনসহ চার জনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।